শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পেট ভরে খাওয়া যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সঠিক পুষ্টিও। কিন্তু অনেক সময় শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি হলে আমরা তা বুঝতে পারি না। চিকিৎসকদের মতে, কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের অভাবের প্রথম সতর্কবার্তা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন,  ভিটামিন এ  কমে গেলে রাতের অন্ধকারে ঠিকমতো দেখতে সমস্যা হতে পারে। অনেকেই এটিকে সাধারণ চোখের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। যা শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।

ভিটামিন সি-এর অভাব হলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, সহজে ক্ষত না শুকানো বা ত্বক নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। লেবু, আমলকি, কমলা ইত্যাদি ফল নিয়মিত খেলে এই ঘাটতি পূরণ হতে পারে।

ভিটামিন কে কম থাকলে শরীরে সহজে নীল দাগ পড়ে বা সামান্য কেটে গেলেও বেশি রক্তপাত হতে পারে। সবুজ শাকসবজি কম খাওয়ার ফলে এমনটা হতে পারে বলে জানান চিকিৎসকেরা।

ভিটামিন বি৬-এর ঘাটতিতে মুখের কোণে ফাটল, জিভে জ্বালাপোড়া বা ত্বকে র্যারশ দেখা দিতে পারে। একইভাবে ফোলেট (ভিটামিন বি৯) কমে গেলে মুখে ঘা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।

ক্যালসিয়ামের অভাবে পেশিতে টান ধরা, আঙুলে ঝিনঝিনি ভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে আইডিনের অভাবে গলার সামনের অংশ ফুলে ওঠার সমস্যা হতে পারে, যাকে গয়টার বলা হয়।

চিকিৎসকদের বক্তব্য, এই লক্ষণগুলি শরীরের ‘ওয়ার্নিং সিগন্যাল’। দীর্ঘদিন একঘেয়ে খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া বা হঠাৎ কঠোর ডায়েট করলে এই ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের সবজি, ফল, ডাল, ডিম, মাছ ও দুগ্ধজাত খাবার রাখা জরুরি।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, শুধু লক্ষণ দেখে নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। রক্তপরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরকে ভিটামিনের ঘাটতি থেকে দূরে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়।