অনেক সময় দেখা যায়, বাড়ির মহিলারা যদি একটু বিশ্রাম নেন বা কিছু সময় চুপচাপ শুয়ে থাকেন, তখন তাঁকে ‘অলস’ বলে মন্তব্য করা হয়। তবে প্রাচ্য দর্শন বলছে, সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। ফেং শুই ও বাস্তুশাস্ত্র মতে, নারীর শান্ত ও বিশ্রামের অবস্থাই নাকি বাড়িতে ইতিবাচক শক্তি ও সমৃদ্ধি টেনে আনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের পরিবেশ শুধু আসবাব বা সাজসজ্জার ওপর নির্ভর করে না, পরিবারের সদস্যদের মানসিক অবস্থার ওপরও নির্ভরশীল। একজন মহিলা যদি সারাক্ষণ কাজের চাপ, দুশ্চিন্তা ও ক্লান্তিতে ভোগেন, তাহলে তার প্রভাব ঘরের পরিবেশেও পড়ে। কিন্তু তিনি যদি নিয়মিত বিশ্রাম নেন, নিজের জন্য কিছু সময় রাখেন তাহলে তার ভেতরের শক্তি বা এনার্জি ফের সঞ্চিত হয়। এই ইতিবাচক শক্তিই ঘরের শান্তি ও প্রাচুর্য বাড়াতে সাহায্য করে বলে দাবি করা হয়।
ফেং শুইতে ‘ওয়েলথ কর্নার’ বা সম্পদের কোণের কথাও বলা হয়েছে। বাড়ির মূল দরজায় দাঁড়িয়ে ভেতরে তাকালে বাঁদিকের শেষ কোণটিকে সম্পদ ও সমৃদ্ধির স্থান হিসেবে ধরা হয়। এই জায়গাটি পরিষ্কার ও গুছিয়ে রাখা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলা, নিয়মিত ধুলো পরিষ্কার করা এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা ভাল বলে মনে করা হয়।
এই কোণে সবুজ গাছ, মানি প্ল্যান্ট, সোনালি বা বেগুনি রঙের সামগ্রী কিংবা সমৃদ্ধির প্রতীকী জিনিস রাখা যেতে পারে। অনেকেই সেখানে ছোট শোপিস, ক্রিস্টাল বা নারীর প্রতীকী মূর্তি রাখেন। পাশাপাশি ইতিবাচক চিন্তা করা বা নিজের লক্ষ্য নিয়ে মনে মনে সংকল্প নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা এও বলেন, এগুলো মূলত বিশ্বাসভিত্তিক ধারণা। তবুও বিশ্রাম, মানসিক শান্তি এবং গুছিয়ে রাখা পরিবেশ যে পরিবারের জন্য উপকারী, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই কাজের ফাঁকে নিজের জন্য কিছু সময় রাখা শুধু শরীরের জন্য নয়, ঘরের পরিবেশের জন্যও ভাল হতে পারে।
