চাঁদ বলুন বা সৌর জগতের অন্যান্য গ্রহ, সবের থেকে পৃথিবী ব্যতিক্রম এ কথা তো জানাই। কিন্তু জলবায়ু, ইত্যাদির সঙ্গে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলেছে আরও একটি জিনিস। মাধ্যাকর্ষণ। এটির কারণেই জায়গার জিনিস জায়গায় থাকে, গাড়ি চলে, মানুষ বা পশুপাখি হাঁটে। নইলে এখানেও সব ভেসে বেড়াত। এবার পৃথিবী তার সেই মাধ্যাকর্ষণ শক্তিই হারাতে বসেছে! সম্প্রতি এমনটাই জানা গিয়েছে। কিন্তু এই তথ্য কি আদৌ সঠিক? 

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে নাসার একটি প্রজেক্ট, যার নাম 'প্রজেক্ট অ্যাঙ্কর' অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। এই প্রজেক্টটির বাজেট ৮৯ বিলিয়ন ডলার ছিল। সেখানেই বলা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট কিছু সময়ের জন্য হলেও তার মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাবে। যেহেতু ইতিমধ্যেই ২০২৬ সাল শুরু হয়ে গিয়েছে তাই দেড় বছর পর ফের হইচই শুরু হয়েছে নাসার এই প্রজেক্ট নিয়ে। ঠিক কী দাবি করা হয়েছিল এই প্রজেক্টে? 

নাসার এই 'প্রজেক্ট অ্যাঙ্কর' -এ বলা হয়েছে পৃথিবী উক্ত দিনে ৭.৩ সেকেন্ডের জন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারিয়ে ফেলবে। সময়টা খুবই সামান্য হলেও এর কারণে গোটা পৃথিবী জুড়ে ৪০ থেকে ৬০ মিলিয়ন বা তারও বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যেতে পারেন। সঙ্গে বাড়ি, ঘর, রাস্তাঘাট, অন্যান্য পরিকাঠামো তো আছেই। সেসবও ধ্বংস হবে। সবটা মিলিয়ে তছনছ হয়ে যাবে পৃথিবী। প্রভাব পড়বে অর্থনীতি এবং জনজীবনের উপর। কিন্তু, এখানে প্রশ্ন উঠছে কেন? এই কয়েক সেকেন্ডে কী এমন হতে পারে? 

প্রথম কয়েক সেকেন্ডে যা যা বাঁধা অবস্থায় থাকবে না। সে মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ি, পশু সব ভাসতে শুরু করবে। বা নিজের জায়গা থেকে উপরে উঠতে শুরু করবে। এই ৭.৩ সেকেন্ডে কম বেশি সমস্ত জিনিসই তার নিজ নিজ ওজন অনুযায়ী ১৫-২০ মিটার উঁচুতে ভেসে উঠবে। যাঁরা বাড়ির মধ্যে থাকবেন তাঁরা সিলিংয়ের সঙ্গে বাড়ি খাবেন। বলাই বাহুল্য, মুহূর্তে হইচই পড়ে যাবে, কিন্তু কিছু করার থাকবে না। এরপর যখন ৭.৩ সেকেন্ডের মাথায় মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ফিরে আসবে পৃথিবীর সব সজোরে আবার মাটিতে বা ভূপৃষ্ঠের থেকে নেমে আসবে। বা আরও ভাল করে বললে, আছাড় খাবে। এর কারণে সকলে আঘাতপ্রাপ্ত তো হবেনই। অনেকে মারা পর্যন্ত যেতে পারেন, আর সংখ্যাটা নেহাত কম হবে না। পরিকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে। অর্থনীতি ডুবে যাবে, যা ঠিক হতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে। 

কেন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাবে পৃথিবী? ব্ল্যাক হোলের থেকে দুটো মাধ্যাকর্ষণ শক্তির তরঙ্গ উৎপন্ন হবে। এই দুই তরঙ্গ যখন একে অন্যের সঙ্গে টক্কর খাবে তখনই এই সমস্যা হবে। এই ঘটনার কথা নাসা প্রথম ২০১৯ সালে বলেছিল। এবং জানিয়েছিল এটি ৯৪.৭ শতাংশ নিশ্চিত যে হবেই। 

এই ঘটনার মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বাঙ্কার বানানো হচ্ছে যাতে সেখানে সরকারি নেতা, আমলা, বিজ্ঞানী, মিলিটারি এবং কিছু নির্দিষ্ট নাগরিকদের রাখা যায়। সঙ্গে পশু, পাখি সহ সমস্ত প্রজাতির জীবকে রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে যাতে জিনগত বৈচিত্র্য বজায় থাকে। কিন্তু এই ঘটনার কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি বা হবেও না, যাতে মানুষের মধ্যে ভয়, হইচই না পড়ে যায়। তবে এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর এটাকে ভুয়ো বলে দাগিয়ে ডেক হয়েছে। 

বাস্তবে এমন কিছু আদৌ ঘটবে কিনা সেটা ১২ আগস্ট বোঝা যাবে।