আজকাল ওয়েবডেস্ক: মারণ রোগে আক্রান্ত স্ত্রীর একটি ব্যক্তিগত অনুরোধ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি প্রথম সামনে আসে জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Reddit-এ, যেখানে এক ব্যক্তি পরিচয় গোপন রেখে জানান, তাঁর স্ত্রী মারণ রোগে আক্রান্ত এবং চিকিৎসকদের মতে তাঁর হাতে মাত্র নয় মাস সময় রয়েছে। দীর্ঘ দশ বছরের দাম্পত্য জীবনের শেষে এমন এক অনুরোধের মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি বলে লেখেন ওই স্বামী।

পোস্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাবে। হুইলচেয়ার থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত শয্যাশায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রী তাঁকে জানান, মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর এক প্রাক্তন সঙ্গীর সঙ্গে একবার শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে চান। তাঁর বক্তব্য, ওই সম্পর্কটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে শারীরিকভাবে তৃপ্তিকর অভিজ্ঞতা। যদিও তিনি বর্তমান স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ককে আবেগগতভাবে গভীর ও পরিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন, তবু এই ‘অপূর্ণ ইচ্ছা’ তিনি শেষবারের মতো পূরণ করতে চান।

স্বামী লেখেন, এই অনুরোধ তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দিয়েছে। তিনি বলেন, একদিকে স্ত্রীর শেষ দিনগুলো যতটা সম্ভব স্বস্তিতে কাটানোর চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে এই প্রস্তাব তাঁর আত্মসম্মান ও মানসিক স্থিতিকে চূর্ণ করে দিয়েছে। তাঁর মনে হয়েছে, তিনি যেন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে পড়েছেন যেখানে ‘না’ বললে তাঁকে নিষ্ঠুর বলা হবে, আর ‘হ্যাঁ’ বললে আজীবন এক গভীর ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে।

এই পোস্ট প্রকাশের পর কয়েক হাজার মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অধিকাংশ মন্তব্যেই বলা হয়েছে, মৃত্যুপথযাত্রী হওয়া কোনও মানুষকে এমন আবদার করার নৈতিক অধিকার দেয় না, যা তার সঙ্গীর জীবনে স্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা ডেকে আনে। অনেকেই মনে করেন, এই অনুরোধ স্বামীর প্রতি অসম্মানজনক এবং বিশ্বাসভঙ্গের সমান। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, স্ত্রী কি আগে থেকেই প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, নাকি অসুস্থতার কারণে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় এমন কথা বলেছেন।

তবে কিছু মতামতে বলা হয়েছে, অসুস্থতার সময় মানুষ প্রায়ই অতীতের অপূর্ণতা নিয়ে তীব্র আবেগে ভোগেন এবং সেই আবেগ থেকেই এমন ইচ্ছার জন্ম হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কোনও সরল ‘ঠিক’ বা ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত নেই। একদিকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানো মানুষের মানসিক সংকট, অন্যদিকে বেঁচে থাকা সঙ্গীর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রশ্ন দুটিই সমান গুরুত্ব দাবি করে।

শেষ পর্যন্ত স্বামী ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁর লেখা থেকে স্পষ্ট, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তাঁর মনে শান্তি নেই। তিনি নিজেই প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি কি নিষ্ঠুর হয়ে গেলেন, নাকি নিজের মানসিক সীমারেখা রক্ষা করলেন। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, সম্পর্ক, যৌনতা, মৃত্যু আর আত্মসম্মান, এই চারটির সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে মানুষ প্রায়ই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হন, যার কোনও সহজ বা সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর নেই।