বর্ষা বা শীতের সময় অনেক বাড়িতেই কাপড় শুকানো সম্ভব হয় না। বাইরে রোদ না থাকলে বা জায়গার অভাবে ঘরের ভেতর কাপড় মেলে দিতে হয়। কিন্তু এই অভ্যাস কি স্বাস্থ্যের জন্য ঠিক? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) জানিয়েছে, ঘরের ভেতরে কাপড় শুকানো কিছু ক্ষেত্রে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ভেজা কাপড় ঘরের ভেতরে শুকালে অন্দরমহলের বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। সহজ করে বললে, ঘর বেশি স্যাঁতসেঁতে হয়ে ওঠে। এই স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে খুব সহজেই ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্মায়। দেওয়াল, ছাদ বা কোণায় কালো বা সবুজ দাগ দেখা গেলে বুঝতে হবে সেখানে ফাঙ্গাস তৈরি হচ্ছে। এই ফাঙ্গাসের ক্ষুদ্র কণা বাতাসের সঙ্গে মিশে আমাদের শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে পড়ে।

হু-এর মতে, দীর্ঘদিন এমন আর্দ্র পরিবেশে থাকলে শ্বাসকষ্ট, কাশি, হাঁপানি, অ্যালার্জি এমনকী ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। যাঁদের আগে থেকেই হাঁপানি, সাইনাস বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি আরও বেশি বিপজ্জনক। শিশু, বয়স্করা এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের বাড়তি সাবধানতা দরকার।

শুধু শ্বাসকষ্টই নয়, অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ত্বকের সমস্যাও হতে পারে। অনেকের চুলকানি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা ঘামাচি বেড়ে যায়। এমনকী অনেকে ঘরের বাতাস ভারী হয়ে যাওয়ায় মাথা ধরাও অনুভব করতে পারেন।

বাস্তবে সব সময় বাইরে কাপড় শুকোনো সম্ভব হয় না। তাই কিছু সহজ নিয়ম মানলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। প্রথমত, ঘরের ভিতরে কাপড় শুকালে অবশ্যই জানলা-দরজা খোলা রাখুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। দ্বিতীয়ত, শোওয়ার ঘর বা বসার ঘরের বদলে বারান্দা বা এমন ঘর বেছে নিন যেখানে আলো ও বাতাস ঢোকে। তৃতীয়ত, একসঙ্গে অনেক কাপড় না মেলে অল্প অল্প করে শুকানো ভাল। সম্ভব হলে এক্সহস্ট ফ্যান বা ডিহিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন, এতে ঘরের আর্দ্রতা কমে। কাপড় কাচার পর ভালভাবে জল ঝরিয়ে নিলে শুকাতেও কম সময় লাগে।