শীত এলেই ডিটক্স করতে কিংবা ওজন কমাতে নিয়মিত গ্রিন জুস খাওয়ার ঝোঁক দেখা যায়। পালং শাক, শসা, ধনেপাতা দিয়ে তৈরি এই কাঁচা সবজির জুসকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর ডিটক্স পানীয় মনে করেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের উপকারের বদলে ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ সবজি মাটিতে জন্মায়। ফলে এতে থাকে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া, জীবাণু, কীটনাশকের অংশ ও ভারী ধাতু। কাঁচা অবস্থায় রস বানিয়ে খেলে এই ক্ষতিকর উপাদান নষ্ট হয় না। এতে পেটের সংক্রমণ, লিভারের সমস্যা এমনকী হেপাটাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। রাস্তার ধারের জুস স্টল থেকে এই ধরনের গ্রিন জুস খেলে বিপদ আরও বেশি।
আরও একটি বড় সমস্যা হল, কাঁচা সবজিতে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট। এই উপাদানগুলো শরীরের ভিটামিন ও খনিজ শোষণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে সবুজ রস খেলেও শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ ঠিকভাবে পায় না।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু কাঁচা সবজিতে অক্সালেট ও গোইট্রোজেন নামের উপাদান বেশি থাকে। নিয়মিত কাঁচা অবস্থায় এগুলো খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে, থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কিডনি বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য কাঁচা সবজির রস বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তাহলে কি সবজি খাওয়া বন্ধ করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারেই না। সবজি শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তবে শীতকালে সবজি রান্না করে বা হালকা সেদ্ধ করে খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। এতে ক্ষতিকর জীবাণু নষ্ট হয়, অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টের প্রভাব কমে এবং শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে পুষ্টিবিদরা শীতে সবজি স্যুপ, ঝোল বা হালকা রান্না করা তরকারি খাওয়ার পরামর্শ দেন। চাইলে ঘরে বানানো হালকা সেদ্ধ সবজির স্মুদি খাওয়া যেতে পারে, তবে রাস্তার কাঁচা জুস এড়িয়ে চলাই ভাল।
