অনেকেই ভাবেন, মন খারাপ বা অশান্তির কারণ শুধু কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের ঘর-বাড়ির পরিবেশও মনের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। ঘরের ছোটখাটো কিছু পরিবর্তনই মানসিক চাপ কমাতে এবং ইতিবাচক ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এমনই কয়েকটি দারুণ টিপসের হদিশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার বিজয়ী জ্যোতিষী ও লাইফ কোচ ডঃ সোহিনী শাস্ত্রী। 

ঘরের কোণে একটি প্রদীপ জ্বালানো, জানালার পর্দা বদলানো বা বাড়ির নির্দিষ্ট দিকে একটি ছোট গাছ রাখা—এইগুলোই ধীরে ধীরে মনের অস্থিরতা কমিয়ে শান্তি আনতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র এবং আধুনিক মনোবিজ্ঞান-দুই দিক থেকেই এই বিষয়গুলোর গুরুত্ব রয়েছে।

প্রথমেই আসা যাক ঘরের কোণে প্রদীপ জ্বালানো নিয়ে। অনেক সময় ঘরের কিছু কোণ অন্ধকার ও অব্যবহৃত থাকে, যেগুলোতে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। বাস্তুশাস্ত্রে এই জায়গাগুলোকে নেতিবাচক শক্তির উৎস বলা হয়। সেখানে একটি ছোট প্রদীপ বা নরম আলো জ্বালালে সেই স্থবিরতা কমে। মনোবিজ্ঞান বলছে, মৃদু আলো আমাদের শরীরের স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে শান্ত করে তোলে।

এরপর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জানালার পর্দা বদলানো। ভারী ও গাঢ় রঙের পর্দা ঘরকে অন্ধকার করে দেয়, যা মনকেও ভারী করে তুলতে পারে। বদলে হালকা রঙের, পাতলা কাপড়ের পর্দা ব্যবহার করলে সূর্যের আলো সহজে ঘরে ঢোকে। এতে ঘর উজ্জ্বল হয়, আর মনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রাকৃতিক আলো শরীরে ‘ফিল-গুড’ হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে মন ভাল থাকে।

সবশেষে, উত্তর-পূর্ব কোণে একটি ছোট গাছ রাখা উপকারী বলে মনে করা হয়। বাস্তুশাস্ত্রে এই দিকটিকে খুবই শুভ ধরা হয়। সেখানে মানি প্ল্যান্ট বা তুলসীর মতো গাছ রাখলে পরিবেশ সতেজ হয়। বিজ্ঞানও বলছে, গাছপালা বাতাস পরিষ্কার করে এবং ঘরের অক্সিজেন বাড়ায়। সবুজ রং আমাদের চোখ ও মনের ওপর শান্ত প্রভাব ফেলে, ফলে চিন্তাভাবনাও পরিষ্কার হয়।

এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো করতে খুব বেশি খরচ লাগে না, কিন্তু এর প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। এগুলো শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে আরও শান্ত ও স্থির করে তোলে। তাই দেরি না করে আজ থেকেই ছোট ছোট পরিবর্তন শুরু করুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে আপনার মনও হালকা ও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠছে।