ভারতে ফের করোনা আতঙ্ক। প্রায় চার বছর পর আবারও থাবা বসালো প্রাণঘাতী ভাইরাস। কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। অন্ধ্রপ্রদেশের কাডাপা জেলার এই ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
সেরাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী মৃতের ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখসহ একাধিক জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোমর্বিডিটি থাকলে কোভিড সংক্রমণে ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, কোভিডের ক্ষেত্রে বয়স সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ। ৫০ বছর বয়সের পর থেকেই কোভিডে মারাত্মক অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকে এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন হয়।
কারও শরীরে যদি আগে থেকেই এক বা একাধিক ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) রোগ থাকে, তবে কোভিডে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই রোগগুলোর মধ্যে প্রধান হল-
*হৃদরোগ অর্থাৎ হার্ট ফেইলিউর, করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের হার্ট ভাইরাসের ধকল সহ্য করতে পারে না।
*ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা লিভার সিরোসিসের রোগীদের শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় জটিলতা বাড়ে।
*সিওপিডি, মাঝারি থেকে তীব্র হাঁপানি কিংবা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কম থাকলে করোনা সরাসরি শ্বাসযন্ত্রকে বিকল করে দেয়।
*টাইপ-১ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত ওজন থাকলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ঠিকমতো সাড়া দিতে পারে না।
*যাঁদের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি অত্যন্ত দুর্বল, তাঁরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। যেমন ক্যান্সারের রোগী (যাঁদের কেমোথেরাপি চলছে), অঙ্গ প্রতিস্থাপন হওয়া ব্যক্তি যাঁদের ইমিউনোসপ্রেসেন্ট ওষুধ খেতে হয় এবং এইচআইভি আক্রান্ত রোগী।
এছাড়া গর্ভবতী মহিলা এবং সদ্য মা হওয়া নারীদের কোভিডে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ নারীদের চেয়ে বেশি থাকে। এছাড়া ধূমপানের অভ্যাস বা যে কোনও ধরনের মাদকাসক্তি ফুসফুস ও শরীরের ক্ষতি করে কোভিডের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, শিশুদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি সাধারণত কম। তবে ১ বছরের কম বয়সী শিশু, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন, অ্যাজমা, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের কোমর্বিডিটি থাকলে কোভিডের কোনও রকম উপসর্গ দেখলেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে এই মারণ ভাইরাস প্রতিরোধ করতে নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করা, বাইরে থেকে এসে হাত ধোওয়া এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও উচিত।















