গরমে তরমুজের চাহিদা বেড়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে, তেষ্টা মেটাতে এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে তরমুজ দারুণ কাজ করে। কিন্তু সম্প্রতি তরমুজ খেয়ে গরমের এই প্রাণজুড়নো ফল খেয়েই সম্প্রতি মুম্বইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। যদিও ওই পরিবারের মৃত্যুর কারণ নিয়ে আরও অনেক সত্য সামনে এসেছে। তবে এই ঘটনার পর তরমুজ খাওয়া নিয়ে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে তা বলাই বাহুল্য। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ছত্তীসগড়ের জানজগির-চাম্পা জেলার ঘুরকোট গ্রামে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। তরমুজ খাওয়ার পর এক ১৫ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও তিন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন শিশু তাদের মামার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে সকালে একটি তরমুজ কাটা হয়েছিল। পরে অনেকক্ষণ সেই তরমুজ রাখা ছিল। কয়েক ঘণ্টা পর শিশুরা সেই তরমুজ খায়।
তরমুজ খাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই শিশুদের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। প্রথমে বমি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা এবং দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন ১৫ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়। অন্য তিন শিশুর চিকিৎসা এখনও চলছে। চিকিৎসকরা তাদের অবস্থার উপর নজর রাখছেন।
ডাক্তারদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘক্ষণ কাটা অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে তরমুজে জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই খাদ্যে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা হয়নি।
ঘটনার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। তরমুজের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং খাদ্য নিরাপত্তা পরীক্ষার রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতর ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীরা এলাকায় নজরদারি শুরু করেছেন। অন্য কোথাও একই ধরনের সমস্যা হয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থাও বিষয়টির উপর নজর রাখছে বলে খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের দিনে কাটা ফল বেশি সময় বাইরে রাখা খুব বিপজ্জনক হতে পারে। তরমুজ, বাঙ্গি, পেঁপের মতো ফলে দ্রুত জীবাণু জন্মাতে পারে। বিশেষ করে গরমে এই ধরনের ফল ঘরের তাপমাত্রায় অনেকক্ষণ রেখে দিলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
চিকিৎসকরা বলছেন, কাটা ফল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খেয়ে নেওয়া উচিত। যদি ফ্রিজে রাখা না হয়, তাহলে কয়েক ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা ঠিক নয়। এছাড়া ফল কাটার আগে ভালভাবে ধুয়ে নেওয়া এবং পরিষ্কার ছুরি ব্যবহার করাও জরুরি।
এই ঘটনার পর চিকিৎসকরা সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সামান্য অসাবধানতা থেকেও বড় বিপদ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।















