কর্কট অর্থাৎ ক্যানসার একবার শরীরে থাবা বসালে তার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া বেশ জটিল। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ক্যানসার আক্রান্ত হন, প্রাণ হারান। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা হু-এর একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে ক্যানসার হওয়ার মূল কারণ জীবনযাপনের ধরন, কী খাচ্ছেন বা পান করছেন এবং কোন পরিস্থিতি, পরিবেশে জীবন কাটাচ্ছেন। তবে এই মারণ রোগের থাবা যাতে শরীরে না বসে তার জন্য এই টোটকা করতে পারেন। 

বিশেষজ্ঞদের তরফে জানানো হয়েছে রোজ, ১০ মিনিট করে এই টোটকা করলে আপনার আশেপাশেও ঘেঁষবে না কর্কট রোগ। কিন্তু ঠিক কী করতে হবে? 

ক্যানসারের হাত থেকে দূরে থাকতে চাইলে নিয়মিত ব্যালেন্সড ডায়েট খেতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যা খাচ্ছেন সেটা যেন পুষ্টিগুণে ভরপুর হয়। আর সেটা ক্যানসার ধরা পড়ার পর নয়। বরং একদম অল্প বয়স থেকেই এই অভ্যাস মেনে চলতে হবে। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে নিয়মিত ব্যালেন্সড ডায়েট খেলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

আর? রোজ অন্তত ১০ মিনিট করে ব্যায়াম করতেই হবে। আলসেমি করে থাকলে চলবে না। ঘাম ঝরে যাতে তেমন ব্যায়াম রোজ অন্তত ১০ মিনিট করে করতে হবে। এতে শরীর ফিট থাকে, মেদ তো ঝরেই। একই সঙ্গে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও কমে অনেকটাই। 

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন রোজ ১০ মিন করে যদি এক টানা বেশ কসরত করা যায়, ঘাম ঝরিয়ে ব্যায়াম করা যায় তবে রক্তের মলিকিউলার প্রোফাইল উন্নত হয়। সেই কারণেই নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করা বা শরীর চর্চা করা জরুরি। 

রক্তের মলিকিউলার প্রোফাইল উন্নত হলে শরীরে ক্যানসার ঘটায় এমন কোষের বৃদ্ধি হওয়া আটকায়। এবং ইতিমধ্যেই যে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটাকে সারাতে সাহায্য করে। ফলে কেউ যদি খুব অল্প বয়স থেকেই রোজ ব্যায়াম করার অভ্যাস রপ্ত করে নেন, অল্প সময়ের জন্য হলেও তবে ক্যানসার হওয়া আটকানো সম্ভব। 

ইংল্যান্ডের নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণাটি করেছেন। তাঁদের সেই গবেষণা পত্র জার্নাল অফ ক্যানসারে প্রকাশিতও হয়েছে। কিন্তু শরীর চর্চা বা ব্যায়াম কীভাবে ক্যানসার হওয়া রোধ করতে পারে? গবেষকরা দেখেছেন শরীর চর্চা করার পর রক্তে ছোট ছোট একাধিক মলিকিউল তৈরি হয়। আর এই মলিকিউলগুলোর মধ্যে এমন একাধিক যৌগিক পদার্থ থাকে যাদের ক্ষমতা রয়েছে শরীরের প্রদাহ কমানোর। এমনকী সেই কম্পাউন্ডগুলো শিরা উপশিরাকে ভাল রাখতে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। 

যখন গবেষণা কেন্দ্রে বিজ্ঞানীরা শরীর চর্চা করার পর রক্তে তৈরি হওয়া এই মলিকিউল যুক্ত রক্তকে ক্যানসারের কোষগুলোর উপর ফেলেছিলেন তখন তাঁরা দেখেন ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত হচ্ছে। ব্যাপক জেনেটিক পরিবর্তন ঘটছে তার জেরে। এমনকী ক্যানসার ঘটানো কোষগুলোর বৃদ্ধি আটকাচ্ছে। 

তবে হ্যাঁ, তাঁরা নিশ্চিত করে এটা দাবি করেননি যে শরীর চর্চা করলে ক্যানসার একদমই হবে না। কিন্তু তার হার ব্যাপক হারে কমবে। আর সেটা তাঁদের গবেষণায় প্রমাণিত।