শাহরুখ খান, কাজল ও রানি মুখার্জির জনপ্রিয় ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এ শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে পরিচিতি পান সানা সঈদ। পরে ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’ ছবিতেও তাঁকে দেখা যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সানা জানিয়েছেন, তিনি বহু বছর ধরে বুলিমিয়া নার্ভোসা নামে একটি গুরুতর ইটিং ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, ছোটবেলা থেকে এই সমস্যা থাকলেও তিনি বুঝতেই পারেননি যে এটি একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত রোগ। পরে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

সানার এই অভিজ্ঞতা সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে বুলিমিয়া। অনেকেই এই রোগ সম্পর্কে জানেন না। অথচ সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি শরীর ও মনের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

বুলিমিয়া কী? বুলিমিয়া একটি মানসিক স্বাস্থ্যজনিত ইটিং ডিসঅর্ডার। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি একসঙ্গে অনেক খাবার খেয়ে ফেলেন। এরপর ওজন বেড়ে যাবে এই ভয় থেকে জোর করে বমি করেন, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকেন, অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন বা ওজন কমানোর নানা অস্বাস্থ্যকর উপায় অনুসরণ করেন। এটি কোনও খারাপ অভ্যাস নয়। বরং এটি এমন একটি রোগ, যার জন্য চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন।

কেন হয় এই সমস্যা? চিকিৎসকদের মতে, বুলিমিয়ার একক কোনও কারণ নেই। একাধিক বিষয় এর জন্য দায়ী হতে পারে। যেমন- নিজের শরীর নিয়ে অতিরিক্ত অসন্তুষ্টি, দ্রুত রোগা হওয়ার চাপ, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব, উদ্বেগ, অবসাদ বা মানসিক চাপ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, পারিবারিক বা সামাজিক চাপ। 

কী কী লক্ষণ দেখা যায়? এই রোগ অনেক সময় সহজে ধরা পড়ে না। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির ওজন সবসময় খুব কম নাও হতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ দেখে সতর্ক হওয়া উচিত। যেমন- খুব অল্প সময়ে অনেক খাবার খেয়ে ফেলা, খাওয়ার পর বারবার বাথরুমে যাওয়া, ওজন বাড়ার ভয় সবসময় কাজ করা, খাবার খাওয়ার পর অপরাধবোধ হওয়া, লুকিয়ে খাওয়ার অভ্যাস, বারবার ডায়েট করা বা অতিরিক্ত ব্যায়াম করা, নিজের শরীর নিয়ে সবসময় নেতিবাচক চিন্তা করা।

চিকিৎসা না করলে কী হতে পারে? বারবার বমি করার ফলে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় জল ও খনিজ বেরিয়ে যায়। এতে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা, হৃদস্পন্দনের সমস্যা, দাঁতের ক্ষয়, গলা ও খাদ্যনালির ক্ষতি, হরমোনের সমস্যা এবং কিডনির জটিলতা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার মতো মানসিক সমস্যাও বাড়তে পারে।

কীভাবে চিকিৎসা করা হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, বুলিমিয়ার চিকিৎসা সম্ভব। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিদ এবং পুষ্টিবিদের যৌথ চিকিৎসায় অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। কাউন্সেলিং, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজন হলে ওষুধের সাহায্যে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পরিবারের সমর্থনও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সানা সাঈদের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। যা হল খাবার নিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ, শরীরের ওজন নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা বারবার বমি করার অভ্যাসকে কখনও অবহেলা করবেন না। এমন লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।