মিষ্টি না খেয়েও ব্লাড সুগারের দাপাদাপি? রোজকার এই ৫ 'স্বাস্থ্যকর' খাবারেই নীরবে বাড়ছে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৮ জুলাই ২০২৬ ২০ : ৩৫
শেয়ার করুন
1
11
ডায়াবেটিসের কথা উঠলে প্রথমেই অনেকে মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু শুধু মিষ্টি এড়ালেই যে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, এমনটা নয়।
2
11
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এমন কিছু খাবার থাকে, যেগুলি দেখতে স্বাস্থ্যকর হলেও ধীরে ধীরে ব্লাড সুগার এবং HbA1c-এর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকুক বা না থাকুক, এই খাবারগুলি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
3
11
HbA1c কী? HbA1c হল একটি বিশেষ রক্ত পরীক্ষা। এটি গত ২ থেকে ৩ মাসে আপনার রক্তে শর্করার গড় মাত্রা কেমন ছিল, তা জানায়। যদি HbA1c-এর মাত্রা বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে দীর্ঘদিন ধরেই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই। এতে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, চোখের ক্ষতি এবং স্নায়ুর জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
4
11
তাহলে কোন খাবারগুলি সাবধানে খাবেন, জেনে নিন। ১. ফলের রস (ফ্রুট জুস)ঃ অনেকেই ভাবেন ফলের রস খুবই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু ফলের রসে ফাইবার প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফলে এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায় এবং ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়। তাই জুসের বদলে গোটা ফল খাওয়াই বেশি উপকারী।
5
11
২. ফ্লেভারযুক্ত দইঃ স্ট্রবেরি, ম্যাঙ্গো বা ভ্যানিলা ফ্লেভারের অনেক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে। তাই এগুলি নিয়মিত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। এর বদলে টক দই খাওয়া ভাল।
6
11
৩. সাদা পাউরুটি ও ময়দার খাবারঃ সাদা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, নুডলস, পাস্তা বা ময়দার তৈরি খাবারে ফাইবার কম এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। এগুলি খুব দ্রুত হজম হয় এবং ব্লাড সুগার হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়।
7
11
৪. প্যাকেটজাত ব্রেকফাস্ট সিরিয়ালঃ সকালের ব্রেকফাস্টে অনেকেই কর্নফ্লেক্স বা বিভিন্ন সিরিয়াল খান। কিন্তু বেশিরভাগ প্যাকেটজাত সিরিয়ালে অতিরিক্ত চিনি থাকে। তাই কেনার আগে প্যাকেটের পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে নেওয়া উচিত।
8
11
৫. ঠান্ডা পানীয় ও মিষ্টি ড্রিঙ্কসঃ কোল্ড ড্রিঙ্ক, এনার্জি ড্রিঙ্ক, মিষ্টি লস্যি বা প্যাকেটজাত ফলের পানীয়ে প্রচুর চিনি থাকে। এগুলি নিয়মিত খেলে শুধু ব্লাড সুগারই নয়, ওজনও দ্রুত বাড়তে পারে।
9
11
কী করলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে? প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ডাল, গোটা শস্য, ওটস, বাদাম এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা করার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
10
11
যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, যাঁদের ওজন বেশি বা বয়স ৪০ বছরের বেশি, তাঁদের নিয়মিত ব্লাড সুগার ও HbA1c পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো সতর্ক হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
11
11
মনে রাখবেন, শুধু চিনি নয়, প্রতিদিনের খাবারের ছোট ছোট ভুলও ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া এবং পরিমিত খাওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।