আজকাল ওয়েব ডেস্কঃ ইদানিংকালে বয়স ৩০ পেরোলেও সন্তানের জন্ম দেওয়া তো দূর, প্রায় অনেক মহিলারা বিয়েও করেন না।চরম ব্যস্ততা ও কেরিয়ারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের এতটা পরিমাণ দৌড়ে অভ্যস্ত করে তোলে যে নিজেকে নিয়ে ভাবতে পারা বা শারীরিক যত্নের কথা মাথায় থাকে না।
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দেরিতে সন্তানের জন্ম দেওয়া অর্থাৎ বয়স ৩০ পেরোনোর পরে গর্ভাবস্থা, বংশগত কিছু কারণ, খুব কম সময়ের জন্য স্তন্যপান করানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুল থেকেই বর্তমানে অল্পবয়সী ও মাঝবয়সী মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ছে।এইসবের প্রভাবে হরমোনে্য ভারসাম্যহীনতায় শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যায়,যা ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।
গবেষণায় প্রমাণিত যে, এই মারণ রোগের সৃষ্টি নির্ভর করে ওভারি থেকে বের হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের পরিমাণের ওপর। ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন প্রতিমাসে পিরিয়ডের সময়ে খুব বেশি মাত্রায় নির্গত হয়। তাছাড়া বিয়ে এবং সন্তানধারণের দেরি, ধূমপান, স্ট্রেস, বেশিমাত্রায় কন্ট্রাসেপটিভ পিল ব্যবহার, মাইক্রো প্লাস্টিকের উপাদান ও প্রসেসড ফুড ব্যবহারে শরীরে কার্সিনোজেনসিসের প্রবেশ এই রোগের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জীবনযাপনের ধরণের উপর এই রোগের বাড়বাড়ন্ত অনেকাংশে দায়ী।এক জায়গায় বসে কাজ, শারীরিক চলাফেরা কম, প্রসেসড ফুড ও ফাস্টফুড বেশি খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট প্রভৃতি ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।কসমেটিক্স ও প্লাস্টিকে থাকা এন্ডোক্রাইন, পরিবেশ দূষণের কারণে বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষতিকর উপাদান থেকে ব্রেস্ট ক্যান্সারের জন্য সমানভাবে দায়ী।

জেনেটিক কারণও অতি মাত্রায় দায়ী থাকে এই মারণ রোগে আক্রান্ত হতে।বিআরসিএ ১ জিনে পরিবর্তন বা মিউটেশন হলে, স্তন, ডিম্বাশয়, এবং অন্যান্য ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
 এই জিনে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যায় ও এটি বংশগত।
 বিআরসিএ 1 জিনে মিউটেশন থাকা মহিলাদের কম বয়সে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা থাকে।

কমবয়সী মহিলাদের মধ্যে সতর্কতা, পরিবারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে দেড় বছর অন্তর ও না থাকলে তিন বছর অন্তর ব্রেস্ট স্ক্রিনিং করাতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস ও সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস এই মারণ রোগকে কিছুটা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।