সেই কোন ছোটবেলায় পড়েছিলেন 'স্বাস্থ্যই সম্পদ'। বর্তমানে মৌখিকভাবে অজস্রবার এই কথা আওড়ালেও ক’জনই বা স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেন। বিশেষ করে আধুনিক জীবনযাপনে এআই,সমাজমাধ্যম, ওটিটি কিংবা রিলের ভিড়ে যেন ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন। কিন্তু সুস্থ থাকলে তবেই না জীবনের সব আনন্দের স্বাদ নিতে পারবেন! বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মনকে ভাল রেখে, রোগভোগকে দূরে সরিয়ে ভাল থাকার হদিশ দিয়েছেন ৩০ জন বাঙালি প্রখ্যাত চিকিৎসক। সাধারণ মানুষের সামনে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে সব বিষয় সবচেয়ে বেশি আসে তা নিয়েই লিপিবদ্ধ হয়েছে ‘ঈশ্বর যখন মানুষ’। ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে এই বই।
বেশ অনেক বছর ধরে যে কোনও সমস্যার সমাধান খুঁজতে ‘গুগল বাবা’র শরণাপন্ন হয়ে আসছে আমজনতা। তারই মধ্যে সঙ্গী হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা। বর্তমানে জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ, সবেতেই এআই-এর দখলদারি। বাদ যায়নি চিকিৎসা ক্ষেত্রও। চুল থেকে চুলকানি, সর্দি-কাশি হোক কিংবা কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগ, সবেতেই হরেক প্রশ্নের উত্তর এক মুহূর্তে পেয়ে উচ্ছ্বসিত আট থেকে আশি। আর এতেই বাড়ছে বিপত্তি। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যাচাই না করা তথ্য বিশ্বাস করা বিপজ্জনক। এদিকে ঘরে-বাইরে নন-মেডিক্যাল মানুষের বিবিধ জ্ঞানের ছড়াছড়ি। স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কিছু কথা আলোচনা হতে হতে যেন মিথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা সমাজের সেই বিড়ম্বনা কাটানোর পথ দেখিয়েছেন প্রথিতযশা চিকিৎসকেরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুরূপ বিষয়কে আকর্ষণীয়ভাবে সহজ গদ্যরূপ দিয়েছেন তাঁরা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ও প্রয়োজনকে সামনে রেখেই লেখা ‘ঈশ্বর যখন মানুষ’। সঠিক তথ্য সুস্থ থাকার প্রথম শর্ত, সেই বার্তাই বহন করছে এই বই। ৩০ টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখেছেন ৩০ জন চিকিৎসক। সাধারণ রোগে কী করণীয়, কী করণীয় নয়, মারণ রোগ মোকাবিলায় কতটা মানসিকভাবে প্রস্তুত-এমন নানা প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই বইয়ে। মস্তিষ্কের জটিলতা ও টিউমার সর্জারির চ্যালেঞ্জ, অ্যালার্জি সহ নানা রকম অসুখের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখনি উঠে এসেছে চিকিৎসকদের কলমে। বিভিন্ন অভিজ্ঞ ও স্পেশালিস্ট চিকিৎসকেরা সব অসুখের বিরুদ্ধে আধুনিক সাবধানতা ও চিকিৎসার পথ দেখিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যের মতো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে অক্ষুন্ন রাখতে এই বইয়ের জুড়ি নেই।
বইটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলঘরিয়া রামকৃষ্ণ মিশন শিল্পপীঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্যোয়ানন্দ মহারাজ, সাহিদ্যিক-সাংবাদন রঞ্জন বন্দ্যেপাধ্যায় সহ একাধিক বিশিষ্ট চিকিৎসক। এপ্রসঙ্গে স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমার নিজের লেখা আগেও প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু এক মলাটে ৩০ জন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতানামা নিয়ে এমন বই এই প্রথম হল।”
আমজনতাকে সচেতন করাই উদ্দেশ্য এই অনন্য বইটির। বই পড়লে অসুখ সারে একথা হয়েতো গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায় না। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে কোন অসুখের কবলে পড়বে কে, তা আগে থেকে বলা অসম্ভব। ‘ঈশ্বর যখন মানুষ’ সেই গ্যারান্টি দেয় না। তবে এই বইয়ের পাঠক হলে অনেক জটিল দুরূপ শারীরিক সমস্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে বই কী! ডা. অভিজিৎ চৌধুরির কথায়, “এই বইটি ডাক্তারবাবুদের মুখের কথায় রোগবিরোগে ভাল থাকার পথের পাঁচালি।”
