মাঝে মধ্যেই খবরের কাগজে বা সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের খবরের পাশাপাশি ট্রেনে আত্মহত্যার চেষ্টা বা মেট্রোর সামনে ঝাঁপের মতো একাধিক খবর দেখা যায়। সরকার বা প্রশাসনের তরফে চেষ্টা করেও অনেক কম এই ধরনের বিপদ আটকানো যায় না। তবে সম্প্রতি জাপান জানিয়েছে তাঁদের একটি উদ্ভাবনী চেষ্টায় ফল পেয়েছেন এই ধরনের মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে। কী সেটা? 

হালকা এলইডি আলো ব্যবহার করার ফলে জাপানে ৮৪ শতাংশ আত্মহত্যা চেষ্টার করার হার কমেছে। জাপানের তরফে দাবি করা হচ্ছে নীল রঙের এলইডি আলোর করবে ট্রেনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা অনেকটাই কমেছে। তাদের তরফে সমস্ত ট্রেন স্টেশনে এই নীল রঙের আলো ব্যবহার করা হয়েছে। আর তাতেই সাফল্য পেয়েছেন। আত্মহত্যার হার ৮৪ শতাংশ কমেছে। 

নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এই উদ্ভাবনী আইডিয়ার ব্যবহার করেছে সূর্যোদয়ের দেশ। জাপানের রেলওয়ে স্টেশনের তরফে দেখানো হয়েছে কীভাবে পরিবেশের একটি ছোট্ট এবং সাধারণ বদল মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সমস্ত স্টেশনে হাই ইনটেনসিটি নীল রঙের এলইডি আলো লাগানো হয়েছে। প্রতিটি স্টেশনের একদম শেষ প্রান্তে এই আলো লাগানো হয়েছে, যেহেতু মূলত এই জায়গাগুলোতে মানুষ আত্মহননের চেষ্টা করেন ফাঁকা, নিরিবিলি থাকে বলে। আর তাতেই চমকপ্রদ ফল পেয়েছে। মানুষের ব্যবহার, আচার, আচরণে বিরাট বদল এসেছে। 

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তরফে গবেষণা করে দেখা গিয়েছে এই আলোগুলো স্নায়ুকে শান্ত করে। মনকে শান্ত করে। শান্তির পরিবেশ বা আবহ তৈরি করে। সমুদ্র বা আকাশ দেখলে মনে যে শান্তি আসে সেটাই এই আলো করে। সেই কারণেই ট্রেনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বা চেষ্টা এই দেশে প্রায় ৮৪ শতাংশ কমেছে গত ১০ বছরে। এই সস্তার অথচ দক্ষ চেষ্টা একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে করিয়ে দেয় যে কীভাবে সাইকোলজিক্যাল কোনও কিছুকে সচেতন ভাবে রিডাইরেক্ট করা যায়। 

তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, মেঘলা দিনে মানুষের মনের বিষাদ যেন আরও বেড়ে যায়, সেই সময়ই জাপানে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পায়। সেখানে এই ধরনের নরম আলো সেটাকে রোধ করতে সাহায্য করে। এখান থেকেই স্পষ্ট বায়োলজিক্যালি উজ্জ্বলতা, আলোর কেন প্রয়োজন। 

তবে তাই বলে বুক সমান উচ্চতার পাঁচিল বা গার্ডরেল, স্লাইডিং দরজাও উপকারী নয় এমনটা নয়। এগুলোও জরুরি পদক্ষেপ। কিন্তু এগুলো খরচসাপেক্ষ। সেই তুলনায় স্টেশনে স্টেশনে নীল আলো লাগানো পকেট ফ্রেন্ডলি। সহজেই করা যায়। বিশেষ ঝক্কি নেই।