আজকাল ওয়েবডেস্ক: চুল পড়া নিয়ে এখন নারী পুরুষ উভয়েই জেরবার। কেউ লম্বা চুল রাখতে চাইলে ঘরময় উড়ে বেড়াচ্ছে ছেঁড়া চুল। কারও আবার মাথায় টাক পড়ার সমস্যা। অনেক সময় বাজারচলতি নামীদামি প্রসাধনী ব্যবহার করেও চুল পড়া কমে না। তাহলে চুল কীভাবে বাঁচানো যায়?
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, চিন্তা নেই, এর সহজ সমাধান রয়েছে আপনার রান্নাঘরেই। মায়ের হাতের যত্নে তৈরি একটি ঘরোয়া পানীয়ই হয়ে উঠতে পারে আপনার চুলের যাবতীয় সমস্যার মহৌষধ।
বিট, আমলকী, আদা আর কারি পাতার মিশ্রণে তৈরি এই বিশেষ পানীয় শুধু শরীরকেই সতেজ রাখে না, চুলের গোড়ায় পুষ্টির জোগান দিয়ে তাকে ভিতর থেকে মজবুত করে তোলে। কয়েক মাস ধরে নিয়ম করে এই জুস পান করলে চুল পড়া যেমন কমে তেমনই গজায় নতুন চুলও।
আরও পড়ুন: পুরুষের ওই বিশেষ লোমে কুকুরের থেকেও বেশি জীবাণু থাকে! ঠিকভাবে পরিষ্কার করবেন কীভাবে? জেনে নিন ৬ টিপস
কেন এত উপকারী এই পানীয়?
এই জাদুকরী পানীয়ের প্রতিটি উপাদানই চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আসুন, জেনে নেওয়া যাক এর গুণাগুণ।
১। বিট: বিটে থাকা আয়রন, ফোলেট ও ভিটামিন সি স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়া মজবুত করে। এগুলি চুলের ফলিকলকে পুষ্টি জোগায়, ফলে চুল ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
২। আমলকী: ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর আমলকী চুলের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এটি চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে, অকালপক্বতা রোধ করে এবং চুল ঝরে পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
৩। আদা: এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিসেপটিক গুণ স্ক্যাল্পকে যে কোনও সংক্রমণ বা খুশকির সমস্যা থেকে রক্ষা করে। আদা চুলের গোড়ায় রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে দ্রুত চুল বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
৪। কারি পাতা: প্রোটিন ও বিটা-ক্যারোটিনের মতো অত্যাবশ্যকীয় উপাদানে ভরপুর কারি পাতা চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা রোধ করে। এটি চুলের গোড়া মজবুত করার পাশাপাশি মেলানিন উৎপাদন বাড়ায় এবং চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: পুরুষের ওই বিশেষ লোমে কুকুরের থেকেও বেশি জীবাণু থাকে! ঠিকভাবে পরিষ্কার করবেন কীভাবে? জেনে নিন ৬ টিপস
বানানোর সহজ পদ্ধতি
১। একটি মাঝারি মাপের বিট এবং একটি আমলকী ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।
২। এর সঙ্গে যোগ করুন কয়েক কুঁচি আদা এবং ৮-১০টি তাজা কারি পাতা।
৩। পরিমাণমতো জল দিয়ে সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ভাল করে মিশিয়ে নিন।
৪। এরপর মিশ্রণটি একটি পাতলা কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে রস আলাদা করে নিন।
৫। ভাল ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন সকালে খালি পেটে এই পানীয় পান করুন।
কী কী উপকার পাবেন?
নিয়মিত এই পানীয় খেলে একাধিক উপকার মিলতে পারে:
১। চুল পড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
২। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।
৩। চুলের গোড়া মজবুত হবে এবং চুল ঘন দেখাবে।
৪। খুশকি ও স্ক্যাল্পের অন্যান্য সমস্যা দূর হবে।
৫। অকালপক্বতা রোধ করে চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
সুতরাং, রাসায়নিকযুক্ত পণ্যের পিছনে না ছুটে, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভরসা রাখতে পারেন মায়ের রান্নাঘরের এই ঘরোয়া টোটকায়। সামান্য যত্নেই আপনার চুল হয়ে উঠবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও মজবুত।
