ব্যস্ততার জীবনে বেশিরভাগ মানুষের পক্ষে রোজ ঘর গোছানো সম্ভব হয় না। ডিপ ক্লিনিং হোক কিংবা ঘর সাজানো, সবই ছুটির দিন ছাড়া উপায় নেই। তাই তো হঠাৎ করে বাড়িতে অথিতির আগমন হলে অপ্রস্তুতে পড়তে হয় বই কী! ঘর ঠিকমতো গুছানো নেই, কীভাবে এত তাড়াতাড়ি ঘরকে সুন্দর করে তোলা যাবে? ঘুরপাক খায় এই সব চিন্তা। তবে ইন্টেরিয়র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড়সড় পরিষ্কার বা সাজসজ্জার দরকার নেই। অল্প কিছু পরিবর্তন করলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘরকে পরিষ্কার ও ঝকঝকে করে তোলা সম্ভব। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমেই ঘরের অগোছালো জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। টেবিল, সোফা বা তাকের ওপর ছড়িয়ে থাকা ছোটখাটো জিনিস যেমন রিমোট, চার্জার বা কাগজ দ্রুত গুছিয়ে রাখলে ঘর অনেক বেশি পরিপাটি দেখায়। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রেখে কয়েকটি সুন্দর জিনিস সাজিয়ে রাখলে ঘরের সাজও বাড়ে। 
এরপর সোফা ও কুশনের দিকে নজর দিতে হবে। কুশনগুলো ঝেড়ে সোজা করে সাজিয়ে রাখুন, সোফার ওপর থাকা কম্বল বা থ্রো সুন্দর করে ভাঁজ করুন এবং কার্পেট বা পর্দা ঠিক করে দিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট পরিবর্তনগুলো কয়েক সেকেন্ডেই ঘরকে নতুন করে সাজানো মনে করাতে পারে। 

আলোও ঘরের পরিবেশ বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। খুব উজ্জ্বল সাদা আলো না জ্বালিয়ে নরম বা উষ্ণ আলো ব্যবহার করলে ঘরের লুক বদলে যায়। চাইলে একটি মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। এতে ঘরের পরিবেশ আরও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। 

ঘরকে আরও প্রাণবন্ত করতে ছোট গাছ বা ফুল ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি ফুলদানি, ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট বা ফলভর্তি বাটি টেবিলে রাখলে ঘর অনেক সতেজ দেখায়। বিশেষ করে ডাইনিং টেবিল বা সেন্টার টেবিলে এমন কিছু রাখতে পারেন যা পুরো ঘরের সাজ আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। 

এছাড়া শুধু সাজসজ্জা নয়, ঘরের গন্ধ ও শব্দও গুরুত্বপূর্ণ। জানালা খুলে দিলে ঘরে সতেজ বাতাস ঢোকে। চাইলে হালকা সুগন্ধি বা রুম ফ্রেশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি মৃদু ভলিউমে হালকা গান চালালে অতিথিদের কাছে পরিবেশ আরও মনোরম হয়ে ওঠে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিথি এলে ঘরকে নিখুঁত করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা। তাই অল্প সময়ে ছোট ছোট পরিবর্তন করলেই ঘর অনেক বেশি সুন্দর, গোছানো হয়ে উঠতে পারে।