গরমকাল মানেই ঘাম, ধুলোবালি, রোদ আর ত্বকের নানা সমস্যা। এই সময় অনেকেরই ব্রণ, ঘামাচি, চুলকানি, র‍্যাশ বা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যার মোকাবিলায় বহুদিন ধরেই ভরসার নাম নিম। 


আমাদের পরিচিত এই গাছের পাতা, তেল ও নির্যাসে রয়েছে জীবাণুনাশক, ছত্রাকনাশক এবং প্রদাহ কমানোর গুণ। তাই গরমের দিনে ত্বক ও শরীরের যত্নে নিম হতে পারে একটি সহজ ও প্রাকৃতিক উপায়।


নিম-জলে স্নান: গরমে ঘামাচি ও চুলকানির সমস্যা খুবই সাধারণ। এক মুঠো নিমপাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে স্নানের জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এই জলে স্নান করলে ত্বক পরিষ্কার থাকে, ঘামাচি কমে এবং শরীরে সতেজ অনুভূতি আসে। যাদের ত্বকে র‍্যাশ বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তারাও উপকার পেতে পারেন।


নিম ও হলুদের ফেসপ্যাক: মুখে ব্রণ বা অতিরিক্ত তেল জমার সমস্যা থাকলে নিমের ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। নিমপাতা বেটে বা নিম গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য হলুদ ও গোলাপজল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। সেটি মুখে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং ব্রণের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।


অ্যালোভেরা ও নিমের মিশ্রণ: প্রচণ্ড রোদে বাইরে থাকলে অনেক সময় ত্বক লাল হয়ে যায় বা জ্বালা করতে থাকে। এই ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে নিমপাতা বেটে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। এটি ত্বককে ঠান্ডা করে এবং অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। রোদে পোড়া ত্বকের যত্নেও এই মিশ্রণ কার্যকর হতে পারে।


নিম চা: শুধু ত্বকের জন্য নয়, শরীরের যত্নেও নিমের ব্যবহার রয়েছে। নিমপাতা দিয়ে তৈরি চা অনেকেই পান করেন। যদিও এর স্বাদ তেতো, তবুও এটি শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। তবে যাঁদের কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত নিম চা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


নিম তেল ব্যবহার: গরমকালে মশা ও পোকামাকড়ের উপদ্রবও বেড়ে যায়। নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা নিম তেল মিশিয়ে শরীরে লাগালে তা প্রাকৃতিকভাবে মশা দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি পোকামাকড় কামড়ালে চুলকানি বা জ্বালাভাব কমাতেও নিম তেল কিছুটা উপকারী হতে পারে।