ফিফা বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে পাড়ার খেলার মাঠ পর্যন্ত, বিশ্বের ফুটবলের এক বিশাল অংশ উৎপাদনের জন্য একটি শহরই দায়ী।
2
10
এটি বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত মোট ফুটবলের প্রায় ৭০ শতাংশ তৈরি করে এবং ‘বিশ্বের ফুটবল কারখানা’ উপাধি অর্জন করেছে।
3
10
শহরটি পাকিস্তানের শিয়ালকোট। সুইস ফটোগ্রাফার স্টেফান বোরার শিয়ালকোটের ফুটবল শিল্পের অসাধারণ কারুকার্য ক্যামেরাবন্দি করতে সেখানে গিয়েছিলেন।
4
10
তাঁর লেন্সে বন্দি হয়েছে, কীভাবে দক্ষ কর্মীরা গুণমান পরীক্ষার আগে যত্ন সহকারে রঙ, লোগো এবং শেষ মুহূর্তের খুঁটিনাটি কাজ করে হাতে সেলাইয়ের মাধ্যমে অসংখ্য ফুটবল তৈরি করে চলেছেন।
5
10
ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে শিয়ালকোটের খ্যাতি রয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে এই শহরে ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল তৈরি হয়ে আসছে। যার ফলে এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
6
10
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক বল ‘ত্রিওন্দা’ও শিয়ালকোটে তৈরি করা হয়েছে। বলটিতে থাকা স্বতন্ত্র নকশার মাধ্যমে টুর্নামেন্টের তিনটি আয়োজক দেশ— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে— প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
7
10
এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে ফরওয়ার্ড স্পোর্টস। ১৯৯১ সালে ইঞ্জিনিয়ার খাজা মাসুদ আখতার সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। মাত্র ৫০ জন কর্মী নিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তা অবশেষে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি ফুটবল উৎপাদনকারী ব্যবসায় পরিণত হয়।
8
10
১৯৯৪ সালে ফরোয়ার্ড স্পোর্টস অ্যাডিডাসের সঙ্গে যুগান্তকারী চুক্তি করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার উন্মুক্ত হয় এবং কোম্পানিটি ফিফার বিশ্বস্ত সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল উৎপাদন করে আসছে সংস্থাটি।
9
10
প্রতিষ্ঠাতা আখতার বলেন, “আমাদের অগ্রগতির অন্যতম প্রধান কারণ হল নারী ক্ষমতায়নের ওপর আমাদের মনোযোগ। কিছু সেরা ফুটবল সেলাই এবং উৎপাদনের কাজ নারী কর্মীরাই সম্পন্ন করেছেন।”
10
10
বর্তমানে সংস্থাটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ফুটবল উৎপাদন করে। এটি উৎপাদনে নারীদের অংশগ্রহণের উপরও জোর দেয়, যা প্রমাণ করে যে উদ্ভাবন, কারুশিল্প বিশ্বব্যাপী সাফল্য আনতে পারে।