কেসর, আলফোনসো, ল্যাংড়া, বদামি, আম্রপালি, তোতাপুরি— সব এক গাছেই! শুনতে অবিশ্বাস্য, কিন্তু সত্যি। গুজরাটের আমরেলি জেলার ধারি তালুকের ডিটালা গ্রামের কৃষক উকাভাই ভাট্টি এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন।

 তাঁর বাগানের একটি গাছে ফলছে ১৪ রকমের আম— বছরের পর বছর ধৈর্য, পরিশ্রম ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ফসল। রহস্যের নাম ‘গ্র্যাফটিং’ বা কলম-পদ্ধতি।  

মূল গাছের ডাল কেটে ভি-আকৃতির খাঁজ তৈরি করা হয়। নতুন প্রজাতির ডালটিও একই কোণে কাটা হয়। দু’টি অংশের ‘ক্যাম্বিয়াম স্তর’ (বাকলের নিচের সবুজ অংশ) ঠিকভাবে মিলিয়ে গ্র্যাফটিং টেপ দিয়ে শক্ত করে বাঁধা হয়। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই বোঝা যায় কলম জুড়েছে কি না।

ভাট্টি মহারাষ্ট্রে গিয়ে দুর্লভ আমের ডাল সংগ্রহ করে এনেছিলেন। ধৈর্য ধরে পরীক্ষা চালিয়ে গেছেন বছরের পর বছর।

কেসর, আম্রপালি, ল্যাংড়া, বদামি, গুলাবি, রসবাড়ি, জামাদার, কালা জামাদার, হাপুস (আলফোনসো), তোতাপুরি— এবং তার সঙ্গে রাজস্থানের প্রায়-বিলুপ্ত ‘কালো জামাদার’, বলসাড়ের নীলম, সিন্ধুরিয়ো, দশেরি, এত রকমের আম ফলিয়েছেন কৃষক৷ প্রতিটি আমের রং, স্বাদ, গন্ধ ও আকার আলাদা।

প্রায় ২৫ বছর আগে ভাট্টির বাড়ির আঙিনায় বসানো হয়েছিল একটি দেশি আম গাছ। সেই গাছটিই আজ এই বিরল কীর্তির কেন্দ্রবিন্দু। ২০ বিঘা জমির মালিক এই কৃষক জানান, “নবাবি যুগে ভারতে প্রায় ২০০ ধরনের আম ছিল। আজ অধিকাংশই বিলুপ্ত। মাত্র কেসর, আলফোনসোর মতো কয়েকটি ছাড়া বাজারে আর কিছু মেলে না। সেই হারানো প্রজাতিগুলোকে বাঁচাতেই আমার এই প্রচেষ্টা।”

তালালার ‘ম্যাঙ্গো এক্সেলেন্স সেন্টার’-এর উদ্যানপালন আধিকারিক বিজয়সিংহ বরাড় সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন— “এই খুটা গ্র্যাফটিং পদ্ধতিতে এক গাছে ১০০ পর্যন্ত প্রজাতি ফলানো সম্ভব। তালালা তালুকেরই ভালছেল গ্রামে একটি গাছে ৬৫ প্রজাতির আম ফলছে।” তবে এর জন্য চাই অসাধারণ দক্ষতা ও যত্ন।

উদ্যানপালকদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু কৌতূহল নয়— জিন-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের এক বাস্তব উদাহরণ। লুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলোকে বাঁচানো যাচ্ছে, ছোট জমিতে অনেক ধরনের ফল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, ছোট কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন৷" 

ভারতে এমন কীর্তির পথিকৃৎ উত্তরপ্রদেশের মালিহাবাদের ‘ম্যাঙ্গো ম্যান’ কালিমুল্লাহ খান, যিনি একটি গাছে ৩৫০ প্রজাতির আম ফলিয়েছেন।