আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির ডাকে সারা সাড়া দিয়ে হাজিরা দিয়েছিলেন রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে নির্ধারিত সময়ে তিনি পৌঁছে যান। প্রায় ৯ ঘণ্টা পরে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন। বেরনোর পরে তাঁকে বেশ আত্মবিশ্বাসীই দেখাল। সুজিত জানান, তদন্তে সহযোগিতা যদি তাঁকে আবার ডাকা হয় তিনি আবার আসবেন। তিনি বলেন, “ব্যবসা করা অপরাধ নয়, চুরি করা অপরাধ।”

সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুজিত বলেন, “সকলেই জানেন কেন আমায় ডাকা হয়েছিল। যে বিষয়ে আমায় ডাকা হয়েছিল, সেই মামলায় সিবিআই ইতিমধ্যে চূড়ান্ত চার্জশিট দিয়ে দিয়েছে। ইডির তরফ থেকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছিল আমায়। আমি তদন্তে সব সময় সহযোগিতা করব। আবার ডাকলে আবার আসব।” এখানেই না থেমে ইডির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “কিন্তু একটাই জিনিস বলার, বিষয়টি কখনই হেনস্থার পর্যায়ে না যায়। যে বিষয়ে আমি নেই সেখানে বারবার ডাকা হচ্ছে। কয়েকটি নথি চেয়েছে। পাঠিয়ে দেব। আমার দু’টি রেস্তরাঁ রয়েছে। ধাবা আমার নয়। ব্যবসা করা অপরাধ নয়, চুরি করা অপরাধ।”

এর আগে সুজিতকে তিনবার তলব করেছিল ইডি। তদন্তের স্বার্থে গত বছর লেকটাউনে মন্ত্রীর দু’টি বাড়ি এবং তাঁর অফিসে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুর ধাবাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, সেই সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। এই মামলার সূত্রে সুজিত বসুর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও জামাইকেও এর আগে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

কয়েক দিন আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজিতকে একাধিক বার তলব করেছিল ইডি। নির্বাচনী কাজে ব্যাস্ত থাকায় প্রতি বারই ইডির থেকে সময় চেয়ে চিঠি পাঠান। এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সুজিত। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়েছিল, ১ মে সুজিতকে হাজিরা দিতে হবে ইডি দপ্তরে।  সেই অনুযায়ী শুক্রবার হাজিরা দেন সুজিত।