আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভবানীপুর তাঁকে দিয়েছে জয়ীর শিরোপা। তাও আবার মমতা ব্য়ানার্জির মতো হেভিওয়েটকে তাঁর'ই ডেরায় হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছেন তিনি। তাই ভবানীপুরের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা যে থাকবেই, তা নিয়ে কারও কোনও সংশয় নেই। সেই সূত্রেই এবার ভবানীপুরকে 'ফিরিয়ে' দেওয়ার পালা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। সেই কথা রাখতেও শুরু করলেন তিনি। বুধবার ভবানীপুরে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন মিছিল করলেন শুভেন্দু অধিকারী। 

এদিন বিকেলে চেতলা মহাবীর মন্দিরে ঢুকে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজয় মিছিলে ভবানীপুরবাসীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে হাঁটতেও জনসংযোগ করেন তিনি। চেতলা লক গেট থেকে মিছিল শুরু করে ২৪ পল্লি হয়ে সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে কালীঘাট, হাজরা মোড় পেরিয়ে এক্সাইড হয়ে ক্যামাক স্ট্রিটে শেষ হবে এই মিছিল। বিজেপি কর্মী সমর্থকরা জমায়েত শুরু করেছেন ইতিমধ্যেই। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর, রাসবিহারী কেন্দ্রের কর্মীরাও সামিল হন এই মিছিলে।  

বুধবারই নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রকে বেছে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র এবার ভবানীপুর থেকেই রাজনৈতিক লড়াই চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মমতা ব্য়ানার্জির শক্ত ঘাঁটিতে তাঁকে পরাজিত করে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসেছেন শুভেন্দু। আগেই ইঙ্গিত ছিল যে ভবানীপুর কেন্দ্রই তিনি রাখবেন। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নেন তিনি এবং নন্দীগ্রামের আসন ছেড়ে দেন। নন্দীগ্রামের দায়িত্ব পালন করলেও ভবানীপুরের জয়ী প্রার্থী হিসেবেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার ভবানীপুরের মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন মিছিল করলেন তিনি।

সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি দুটি আসনে জয়ী হন, তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হয়। শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র নেতা হুমায়ুন কবীরও। রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ায়, তাঁকেও একটি আসন ছাড়তে হয়। রেজিনগর ছেড়ে নওদার বিধায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেন হুমায়ুন কবীর।