রিয়া পাত্র
তৃণমূলের শুরুর দিকের সৈনিক ছিলেন। মাঝে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। আবার ফিরেছিলেন জোড়াফুলে। ভোটে হারের পর, মমতার অতি বিশ্বস্ত নেতারা যখন দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন দলনেত্রীর থেকে, তখন আচমকা, মমতার সঙ্গে দিনভর দেখা গিয়েছিল 'কানন'কে। অনেকেই সেদিন বলেছিলেন, তৃণমূলে 'শোভনই সুন্দর'! ৩১মে, সোনারপুরে প্রবল জনরোষের মুখে পড়েন অভিষেক। তাঁকে লক্ষ করে পাথর, ইট, ডিম, কাদা ছোঁড়া হয়। সেদিন রাত ১২টা পর্যন্ত মমতার পাশেই ছিলেন কানন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, রাজনীতি সরিয়ে বলেছিলেন, 'আমি অভিষেককে জন্মাতে দেখেছি। আমার সামনে বড় হতে দেখেছি। আর মমতা ব্যানার্জির কাছে আমি বড় হয়েছি।' কিন্তু তারপর থেকে, প্রাক একমাস, আর সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন, তাহলে কি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জল মাপছেন তিনি? আবার কি যাবেন বিজেপিতেই?
কী ভাবছেন এতদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ? শোভনের মনের কথা জানতে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল বৈশাখী ব্যানার্জির সঙ্গে। এক প্রশ্নের উত্তরেই, বোমা ফাটালেন বৈশাখী। তাঁর কথায়, একদিকে ফুটল হতাশা, অন্যদিকে আশা।
মমতার পাশে 'কানন' ছিলেন বিপর্যয়ের দিনেও। তাহলে এখন কেন চুপ? বৈশাখী বলছেন, 'শোভন কৃতজ্ঞতা ভোলে না। আমার আর শোভনের যোগাযোগের অন্যতম কারণ ছিল, কৃতজ্ঞতা বোধ দু'জনের। ও কখনও বলেনি, ওর মুখ দেখে ভোট জিতেছে। বরাবর বলে এসেছে মমতা ব্যানার্জি না থাকলে, শোভন, শোভন চ্যাটার্জি হতে পারত না। ব্যাক্তিগতভাবে ও দিদির পাশে থাকুক সারাজীবন, সেটাই চাইব। কিন্তু...'
কিন্তু? বৈশাখী বলছেন, 'কিন্তু এই দিদিই বৈশাখীকে শিখণ্ডী বানিয়ে, রাজনীতি থেকে ব্রাত্য করে দিল শোভনকে। কোনও কারণ ছিল না। শোভনের কাজ নিয়ে, কলকাতাকে যে পরিষেবা দিয়েছে, তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু ওর রাজনীতির, কেরিয়ারের পিক সময়ে সরিয়ে দেওয়া হল। এই দিদিই ওকে জল-শোভন বলে পরিচিতি দিয়েছিলেন, যখন এনকেডিএ-তে, জলের সমস্যা মেটাতে এ'দরজায়, ও'দরজায় ঘুরল, তখন কেউ সামান্য সাহায্য করল না। দিদির সময়ে আসলে সবথেকে ক্ষতিকারক ধারণা ছিল-সব কাজ হয়ে গিয়েছে। চারদিকে দুর্নীতি। দিদি চোখ বন্ধ করে ভরসা করলেন যাঁদের, তাঁরাই এখন সরে পড়েছে। এখন বুঝছেন তিনি।'
তবে বৈশাখী আশাবাদী, কখনও, সেরকম সময় হলে, শোভনের মতো 'কাজের মানুষ'কে কাজে লাগাবেন শুভেন্দু। দু'জনের মিলও উল্লেখ করছেন তিনি। বলছেন, 'একসময়ে তৃণমূলের ভিত শক্ত করে জয়ের মুখ দেখিয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা আর মেদিনীপুর, কাণ্ডারী ছিলেন শোভন-শুভেন্দু। এখন শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী। আর শোভনের রাজনীতিকে মাঝপথে নষ্ট করলেন দিদি।'














