রিয়া পাত্র

 প্রায় সাত দশক আগের কথা। কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ রচনার পাশাপাশি জীবনানন্দ  দাশ বেশকিছু গানও লিখেছিলেন। কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে জীবনানন্দ দাশের যে সব পাণ্ডুলিপিগুলি সংরক্ষিত রয়েছে তার ৪১ নম্বর খাতায় ১৫ টি গান পাওয়া যায়। 

গবেষকদের মতে গানগুলি রচনা কাল ১৯ ৪৬-এর আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যেই। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে সিনেমায় গান লিখে যদি কিছু উপার্জন করা যায় সেই সুপ্ত বাসনা থেকেই যেন নতুন কিছু গান লিখতে চেয়েছিলেন কবি। প্রেমেন্দ্র মিত্রকে একথা জানিয়ে চিঠিও লিখেছিলেন তিনি।

  প্রায় ৭৮ বছর পর জীবনানন্দের লেখা বেশ কিছু গানে সুরারোপ করার চেষ্টা করেন স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যাপিকা ডক্টর  সহেলী চৌধুরী। জীবনানন্দের ১২৫ বছর জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর লেখা ৭ নম্বর গানটিকে নিয়ে তৈরি হয় একটি মিউজিক ভিডিও। 

 
১০ আগস্ট, শনিবার মান্দাস-এর 'জীবনানন্দ ১২৫'-অনুষ্ঠানে কবির রচিত ৭ নম্বর গানটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়।  প্রকাশ করেন শুদ্ধব্রত দেব।


গান প্রকাশ অনুষ্ঠানে সহেলি বলেন, 'জীবনানন্দ দাশ ১৫টি গান লিখেছিলেন। তাঁর ৭ নম্বর গানে আমি সুর দিয়েছি। এই গানের নাম উনি নির্বাচন করেননি। গানটি নিয়ে আলোচনা হয় জীবনানন্দ গবেষক গৌতম মিত্রর সঙ্গে। একাধিকবার আলোচনায় বসার পর 'ঘুমের হাওয়া'-নাম হিসেবে চূড়ান্ত করি। এই গানের মধ্যে আসলে একটা যাত্রা রয়েছে। বরিশাল থেকে কলকাতা, হারিয়ে ফেলা জীবন, কলকাতার যান্ত্রিক জটিলতা পাশাপশি রয়েছে এই গানে।' মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণের কাজে সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন সুদেষ্ণা গোস্বামী, এডিট করেছেন অনির্বাণ মাইতি এবং সাইন্ড ডিজাইনার করেছেন শুজজিৎ রায় চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে 'অপরানুভূতির বাসনা: জীবনানন্দের কবিতা বিষয়ক কয়েকটি এলোমেলো কথা' শীর্ষক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক  আব্দুল কাফি।