আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত কয়েক বছরের মতো এবারও আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ডিজিটাল পার্টনার ছিল সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি। যাঁরা বইমেলায় আসতে পারেন না তাঁদের ঘরে ঘরে বইমেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিভিন্ন বইপ্রকাশের ছবি পৌঁছে দিয়েছে এসএনইউ। 

বইমেলার শেষ দিনে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের তরফে এসএনইউকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়। স্মারক তুলে দেওয়া হয় সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের ডিন মিনাল পারিখের হাতে।

কলকাতা বইমেলার সাজসজ্জায় বড় প্যাভিলিয়ন হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন’ প্যাভিলিয়ন। আরও চারটি প্যাভিলিয়নকে সেরার তকমা দেওয়া হয়েছে।

আর ‘বিশেষ স্টল’ হিসেবে সেরার পুরস্কার পেল ‘জাগো বাংলা’। মঙ্গলবার সাংসদ দোলা সেনের হাতে এই ট্রফি তুলে দেন গিল্ড সভাপতি সুধাংশুশেখর দে ও সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়।

ছোট প্যাভিলিয়নে সেরা ‘দাঁড়াবার জায়গা’। টুইন শেয়ারিং ক্যাটেগরিতে সেরা ‘শব্দ কলকাতা পাবলিশিং হাউস’। ইংরেজি ভাষার প্রকাশনা স্টলগুলির মধ্যে সেরা বড় প্যাভিলিয়নের পুরস্কার পেল ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস’ আর ছোট প্যাভিলিয়নে সেরা হয়েছে ‘দ্য হিন্দু’।

গিল্ডের পক্ষ থেকে এদের হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণামতো বইতীথেই আগামী বইমেলার আয়োজন হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগেই তৈরি হয়েছে বইমেলা প্রাঙ্গণ। এবার বইতীর্থ। বইমেলা এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে গেছে। আর পরিবহণ ও দমকল দপ্তরের সহযোগিতায় তা পূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘২০১৭ সালের পর থেকে সল্টলেকে বইমেলা শুরু হয়েছে। এখানে বইমেলা প্রাঙ্গণ হয়েছে। এবার হচ্ছে বইতীর্থ। বিধাননগরের বিধায়ক হিসেবে এতে আমি গর্ব বোধ করি।’

পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর কথায়, ‘পাঠক ও প্রকাশকও কিন্তু লেখক। কারণ লেখকের সঙ্গে পাঠকও বইয়ের প্রতিটি লাইনের মধ্যে দিয়ে একটা ছবি এঁকে চলেন। তা না হলে বইমেলায় এত মানুষ আসতেন না।’

গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, পাঠকধন্য বইমেলায় নতুন প্রজন্মের ভিড় বুঝিয়ে দিয়েছে এখনও বইয়ের প্রতি ভালবাসা কমেনি পাঠকের।

১৯৭৬ সালে মাত্র ৩২ জন প্রকাশককে নিয়ে বইমেলার পথচলা শুরু। ৫০ বছরের দোরগোড়ায় এসে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে ১১০০-য়। বহির্বিশ্বে যুদ্ধের আবহেও বইমেলায় অংশ নিয়েছে ব্রিটেন, ইউক্রেন, চীনের মতো দেশ।

আগামী বইমেলাতেও আশপাশের দেশগুলিকে নিয়ে অংশগ্রহণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছে দেশগুলি। ঘণ্টা বাজিয়ে বইমেলার সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষা শুরু হল পঞ্চাশের বইপার্বণের।