আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই, বাংলার শাসক দল বারেবারে সুর চড়িয়েছে। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা নয়, কিন্তু সুর তীব্র হবে, যদি অন্যায়ভাবে নাম বাদ পড়ে কোনও সাধারণ মানুষের। খসড়া তালিকা প্রকাশ, শুনানি প্রক্রিয়া, দিনে দিনে ধাপ যত এগিয়েছে, তত স্পষ্ট হয়েছে সাধারণ মানুষের হয়রানি। মাঝে আতঙ্ক, কাজের চাপ, মৃত্যু মিছিল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবার এসআইআর ইস্যুতে গিয়েছেন দেশের শীর্ষ আদালতে।
একদিকে মমতা ব্যানার্জি যখন, ইতিহাস রচনা করছেন দেশের শীর্ষ আদালতে, দিল্লিতে, তখন কলকাতাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তরে যাচ্ছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তৃণমূল সূত্রের খবর, বুধবার বিকেলে, তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচ প্রতিনিধি দল যাচ্ছে বিবাদি বাগের কমিশনের অফিসে। প্রতিনিধি দলে থাকছেন- পার্থ ভৌমিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, পুলক রায়, স্নেহাশিস চক্রবর্তী। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করবেন তাঁরা। কী আলোচনা হয়, নজর সেদিকে।
বুধবার সকাল থেকেই মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যক্রমের দিকে নজর দেশের। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম। এদিন মামলার শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি। গোটা পরিস্থিতির ব্যাখা করতে পারি। এসআইআর-এর নামে কী চলছে, বলার জন্য পাঁচ মিনিট সময় চাই। জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ছ'বার চিঠি দিয়েছি। কোনও উত্তর পাইনি। কোনও বিচার পাইনি। বিয়ের পর পদবি পরিবর্তনের জন্যেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই লড়াই দলের জন্য নয়, রাজ্যের জন্য।'
নিজের বক্তব্যে একেবারে পয়েন্ট করে তুলে ধরেন একে একে, যা কিছু তিনি গত কয়েকদিনেও বলেছেন বারবার। যা কিছু তিনি সাধারণ মানুষের থেকে শুনেছেন এসআইআর প্রক্রিয়ায়। স্বাভাবিক ভাবেই শীর্ষ আদালতে মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যে উঠে এল লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা, মহিলাদের কথা।
এই মামলায়, শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়েই তিনি বললেন, 'এসআইআর শুধুমাত্র নাম মোছার একটা প্রক্রিয়া। অপরিকল্পিতভাবে চার মাস ধরে চলছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে লোক আনা হচ্ছে। ৫৮ লক্ষের নাম মোছা হয়েছে। ওঁদের আবেদন জানানোর উপায়ও নেই। শুধুমাত্র বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে। বাংলার মানুষের উপর বুলডোজার চালানো হচ্ছে।'
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, 'বিয়ের পর পদবি বদল, দরিদ্র মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন, সবটাই নাকি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। বাংলার মানুষ খুশি যে আদালত আধারকে নথি হিসেবে গ্রাহ্য করতে বলেছে। অন্য রাজ্যে ডমিসাইল সার্টিফিকেট চলছে, জাতি শংসাপত্র চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।'
তিনি আরও বলেন, 'দু'মাসে ওরা যা করছে, তা করতে দু'বছর সময় লাগে। বিএলও-রা আত্মহত্যা করছেন। শুধুমাত্র বাংলাকেই টার্গেট করা হয়েছে। অসম কেন নয়? ৫৮ লক্ষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশন, সরি, হোয়াটসঅ্যাপ কমিশনের জন্য এগুলো ঘটছে।'
