আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার সন্ধ্যায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলা সাহিত্যের জীবন্ত কিংবদন্তি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ধরা দিলেন এক অন্য রূপে।
যা এতদিন তাঁর পাঠক ও গুণগ্রাহীদের অনেকের কাছেই অজানা ছিল। তাঁর কথায়, ‘আমি একজন শব্দসন্ধানী। নানারকম শব্দ ব্যবহার করতে ভালোবাসি। কোথায় কোন শব্দ পড়ে আছে, খুঁজি।’
নিজের জীবন, লেখালেখি ও ভাবনার জগৎ নিয়ে এভাবেই খোলাখুলি কথা বললেন তিনি। শিক্ষকতার জীবন যে তাঁর পছন্দ ছিল না, সেটাও স্পষ্ট করে জানালেন শীর্ষেন্দু।
তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষকতার জীবন চাইনি। ভাল লাগত না। তাই লেখায় শিক্ষকতার জীবনের কথা নেই। খুব নিয়মানুবর্তিতা মেনে বা প্লট ভেবে লিখিনি। যা মনে এসেছে, তাই লিখেছি।’
নিজের সম্পর্কে অকপট স্বীকারোক্তি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেই একজন অনাবিষ্কৃত লোক। নিজেকে চিনতে পারিনি। যদি কখনও নিজের সঙ্গে দেখা হয়, বলব, তুমি কে?’

সোমবারের অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় সাংবাদিক সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই ‘শীর্ষেন্দু আনপ্লাগড’। বই প্রকাশ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল এক জমজমাট সাহিত্যসভার।
উপস্থিত ছিলেন সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী, সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্ত, উল্লাস মল্লিক, পাশাপাশি লেখক ও প্রকাশক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়।
লেখক সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই বই কোনও জীবনীগ্রন্থ নয়। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকা নানা প্রশ্নের উত্তরই ধরা পড়েছে এই বইয়ে।
তাঁর সঙ্গে শীর্ষেন্দুর সম্পর্ক প্রায় ৫০ বছরের। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় নিজে বলেন, বইটিতে তাঁর দীর্ঘ জীবনের নানা স্মৃতির কথা উঠে এসেছে, যদিও সব কথা বলা হয়নি।
জীবনসংগ্রাম, টানাপোড়েন, লাঞ্ছনা ও দারিদ্র্যের অভিজ্ঞতার কথাও আংশিকভাবে স্থান পেয়েছে। সল্টলেকের একটি হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ঘরভর্তি ছিলেন শীর্ষেন্দু-অনুরাগী ও সাহিত্যপ্রেমীরা।
আলোচনার শুরুতে প্রকাশক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'এই বইয়ে নানা মানুষের কথা, নানা দেখার অভিজ্ঞতা ধরা আছে।' জানা যায়, কক্সবাজারের এক পুলিশকর্তা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘দূরবীণ’ পড়েছেন ১১০ বার।
অন্যদিকে, প্রকাশের প্রায় ৫০ বছর পরেও ‘ঘুণপোকা’ উপন্যাসটি আজও সমানভাবে জনপ্রিয় পাঠকমহলে। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে বলতে গিয়ে সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, ‘বাংলা সাহিত্য একটি ভাল বই পেল।’

সাহিত্যিক প্রচেত গুপ্তের কথায়, ‘তাঁর লেখা পড়লে প্রশ্ন জাগে, কেন আমি, কীসের জন্য আমি? তিনি জীবন দেখানোর কারিগর। জীবন আগে, তারপর লেখক।’
উল্লাস মল্লিক আবার শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ‘মানব জীবন’, ‘যাও পাখি’ সহ একাধিক উপন্যাস ও গল্পের উল্লেখ করে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান।
প্রশ্নোত্তর পর্বে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি অনেক মানুষ দেখেছি। সবজিওয়ালা থেকে শুরু করে গাড়ি পার্কিং করা মানুষ, ছোট ঘরে চা বিক্রি করা লোকজন—সবার সঙ্গে মিশি। কোথাও ঝগড়া হলে দাঁড়িয়ে শুনি, মারপিট হলে দেখিও। লিখতে গিয়ে সেই মানুষগুলোই লেখায় ঢুকে পড়ে।’ উল্লেখ্য, ‘শীর্ষেন্দু আনপ্লাগড’ বইটির প্রকাশক পত্রভারতী।
