আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণের পরই নতুন বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। এদিন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, 'ভয় না পেয়ে বাংলার সমস্ত রাজনৈতিক বিরোধী দল যারা আছে তাদেরকে এক হওয়ার ডাক দিচ্ছি। জোট বাঁধুন। যৌথ মঞ্চ তৈরি হবে। আমার ইগো নেই। বিজেপিকে রুখতে হলে বামেদেরও ডাক দিচ্ছি। বাংলাতেও জোট বাঁধি। যদি কেউ কথা বলতে চান তাহলে কথা বলতে পারেন। এখন প্রথম রাজনৈতিক শত্রু বিজেপি। বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচার চলছে। সমস্ত বিজেপির বিরুদ্ধে থাকা রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আসার আহ্বান করছি। যারা যেতে চায় তারা চলে যাক। যারা থাকতে চায় তারা থাকুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নীতির লড়াই শুরু হল। ভোটে কী হয়েছে সকলেই জানেন। মানুষের মঙ্গল হোক। যারা ইচ্ছা হবে তারা একত্রিত হবে। রাস্তাই রাস্তা দেখাবে। বাংলায় যে সন্ত্রাস চলছে তার নিন্দা করছি। বিজেপি এখন তাণ্ডব করছে। অনেক বেনোজল ঢুকেছে। পুলিশ নিশ্চুপ। ২০১১ সালের পর কোনও অত্যাচার করতে দিইনি। যেদিন থেকে জিতেছে সেদিন রাত থেকেই সমস্ত নিরাপত্তা তুলে দিয়েছে। ইন্টারনেটও তুলে নিয়েছে। আমাদের হারানো হয়েছে প্রমাণ হবে। দিল্লির নেতারা যোগাযোগ করেছেন। কেউ বাকি নেই। সংখ্যায় হয়তো বেশি নেই কিন্তু লড়াই করতে হবে। এই লড়াই চলবে। কর্মীদের ওপর সন্ত্রাস চলছে।’
প্রসঙ্গত, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্ত্রিসভায় পাঁচ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দু’জন এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে তিন জনকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে যেমন আদিবাসী মুখ রয়েছেন, তেমন মতুয়া, রাজবংশী এলাকার বিধায়কও আছেন। শুভেন্দুর পাঁচ মন্ত্রী হলেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। শনিবার শুভেন্দুর পর শপথ নেন দিলীপ ঘোষ। তার পর অগ্নিমিত্রা পাল, মতুয়া বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া, আদিবাসী বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু এবং শেষে রাজবংশী অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত নিশীথ প্রামাণিক।
ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। আসানসোল দক্ষিণ থেকে জয়ী হয়েছেন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা। বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী হয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু এবং কোচবিহারের মাথাভাঙা থেকে জয়ী হয়েছেন নিশীথ প্রামাণিক। শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় রয়েছেন এই পাঁচ জন। তবে কে কোন দফতর পাবেন, তা ঘোষণা হয়নি।
কথায় আছে রাজনীতি বড় বালাই। সেখানে কেউ শত্রু বা মিত্র হয় না। যেদিন রাজ্যের ক্ষমতা বুঝে নিল বিজেপি ঠিক সেদিনই রাজ্যের বিরোধী দলগুলির প্রতি তৃণমূল সুপ্রিমোর এই বার্তা বিরাট অর্থ বয়ে নিয়ে এল। এতদিন ধরে যাদের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলেছেন এবার তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলার ডাক দিলেন। রাজ্যে পালাবদলের পর মমতার এই বার্তা আগামীদিনে কোন নতুন সমীকরণ নিয়ে আসে তার দিকে তাকিয়ে সকলেই।
&t=136s















