আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা কাউন্সিলর মালা রায় ও তাঁর পুত্র-সহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে। অবশেষে বুধবার আদালতে মালা রায় ও তাঁর পুত্রসহ ২৪ জন অভিযুক্তরা আত্মসমর্পণ করে মাথাপিছু হাজার টাকা বন্ডে জামিন পান। জামিনের পর আজকাল ডট ইন-এর তরফে মালা রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ''আমি দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি। আমার এলাকায় কোনওদিন কোনও অশান্তি হয়নি। এখন সরকার বদলেছে, ওসব ভুয়ো মামলা করা হয়েছে। সকলেই জানেন, আমি কেমন। আমরা সকলেই জামিন পেয়েছি। আমার জামিন পেতে দু'মিনিট সময়ও লাগেনি।'' 

বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরেই টালিগঞ্জে রাজনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে বড়সড় অভিযোগ সামনে আসে। টালিগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরে সাংসদ তথা ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা কলকাতা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মালা রায় ও তার পুত্রসহ মোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এফআইআর অভিযোগ ছিল, তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও শ্লীলতাহানির মতো ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। 

এফআইআর-এর লিখিত অভিযোগে জানা গিয়েছে, গত ৪মে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ সাধু তারাচরণ রোড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারীর দাবি,  তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ও সমর্থকরা বেআইনি জমায়েত করে বিজেপি সমর্থকদের উপর চড়াও হয়। আরও অভিযোগ, অভিযোগকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রানা মান্না ওরফে ‘গোল্টু’-র বিরুদ্ধে। 

এফআইআরে দাবি করা হয়েছে, রানা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখান। পাশাপাশি মহিলা সদস্যদের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় মালা রায় ছাড়াও অনির্বাণ রায়, বিশ্বজিৎ নস্কর, রাজু রায়, সঞ্জু ভট্টাচার্য, জয় দাস ওরফে টম, সানি রায়-সহ ২৪ জন ব্যক্তির নাম রয়েছে এফআইআরে। 

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি আর্মস অ্যাক্টেও ধারা যোগ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। সেখানে আরও ১৩ জন আত্মসমর্পণ করেন এবং বুধবার বাকি ১০ জনের মধ্য়ে মালা রায় ও তার পুত্র অনির্বাণ রায় আত্মসমর্পণ করেন। প্রত্যেককে হাজার টাকা বন্ডে জামিন দেওয়া হয় বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও বিজেপির অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের জ্বলন্ত উদাহরণ এই ঘটনা।