আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতায় বিরল রোগের চিকিৎসা ও সচেতনতা বাড়াতে এক নতুন পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা। তথ্যভিত্তিক প্রথম বৃহৎ সার্ভের মাধ্যমে শহরে বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগের নাম রাখা হয়েছে ‘কল্যাণ নিরুপম যোজনা’। এটি শুরু হয়েছিল আজ থেকে দুই বছর আগে ২০২৪ শে ফেব্রুয়ারি তে। বিগত দুই বছর ধরে স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমেই কলকাতায় খোঁজ মেলে ১১ জন বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুর। শুক্রবার ২৭শে ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে হলো বাস্তবায়িত এবং চিকিৎসা পদ্ধতি।

এদিন ২৭শে ফেব্রুয়ারি শুক্রবার Organization for Rare Diseases India এবং Rare Warriors of Bengal Association–এর যৌথ সহযোগিতায় এই সার্ভের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কলকাতার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওআরডিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা শিখা মেহেত্রামনি, পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ রনিতা সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

১১ হাজারের বেশি পরিবারে সমীক্ষা

পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ৩০০টি পরিবারের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ৫৯৫ জন আশা কর্মী, মেডিক্যাল অফিসার এবং সার্টিফায়েড জেনেটিক কাউন্সিলর এই কাজে যুক্ত ছিলেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুধুমাত্র প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রথমে ৭২টি পরিবারে বিরল রোগের সম্ভাবনা চিহ্নিত হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে সেই তালিকা থেকে ১১ জন নিশ্চিত বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুদের শনাক্ত করা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা

চিহ্নিত রোগীদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেক রোগীর জন্য জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বাড়ানো যায়।

শুক্রবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেন, “অন্যান্য পুরসভার মতো আমরা পর্যাপ্ত সিএসআর তহবিল পাই না। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এই সার্ভে করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

অন্যদিকে ওআরডিআই- এর প্রতিষ্ঠাতা শিখা মেহেত্রামনি বলেন, “সার্ভে শুরুর আগে আশা কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের ধৈর্য ও নিষ্ঠার ফলেই এই কাজ সফল হয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিরল রোগ সাধারণত দ্রুত চিহ্নিত হয় না। ফলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। কলকাতা পুরসভার এই তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ শহরে বিরল রোগ মোকাবিলায় এক নতুন দিশা দেখাল। আগামী দিনে এই প্রকল্প আরও বিস্তৃত হলে, অনেক অচেনা রোগীর কাছে পৌঁছনো সম্ভব হবে- আশাবাদী রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর ও কলকাতা কর্পোরেশন।