আজকাল ওয়েবডেস্ক: শনিবার দুপুরে অভিষেক ব্যানার্জির হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির সামনে সিআইডি দল। কী কারণে? তা নিয়ে প্রবল চর্চা শুরু হয়। সেসময় অবশ্য তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বাড়িতে ছিলেন না। রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের কর্মীদের তা জানান অভিষেকের বাড়িরই একজন। 

এই সময়ে অভিষেক ব্য়ানার্জি ছিলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে ছিলেন। সেখানে বেলেঘাটায় দলীয় কর্মীর সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। রাজা রামমোহন রায় রোডের বাড়িতে বসেই শান্তিনিকেতনে সিআইডি-র গোয়েন্দাদের যাওয়ার বিষয়টি শোনেন তৃণমূলের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'। পরে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে অভিষেক জানান, তিনি শান্তিনিকেতনে থাকেন না। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে সিআইডি-কে কালীঘাটের বাড়িতেই আসতে হবে।

এরপরই কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকরা। এক কর্মী জানিয়ে দেন, নোটিশ অভিষেককেই দিতে হলে সিআইডি আধিকারিকদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিষেক ব্যানার্জি কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডি আধিকারিকদের থেকে সই করে নোটিশ হাতে নেন।

নোটিশ গ্রহণ করে অভিষেক বলেন, "আমি তো শান্তিনিকেতনে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে এই কালীঘাটের বাড়িতেই আসতে হবে। নোটিশটা রিসিভ করেছি এবং আমি নোটিশ পড়িনি এখনও। যেহেতু ওরা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে, রিসিভ করে ছেড়ে দিয়েছে। এবার যা উপযুক্ত ব্যবস্থা আমি আমার আইনজীনীর সঙ্গে কথা বলব এবং আমার যদি কোথাও কোনও সহযোগিতায় দরকার পরে আমি যাব।’’

সেই সঙ্গেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছোঁড়েন অভিষেক। বলেন ‘‘যাই করুক আমাকে দমাতে পারবে না। মাথা নত করিনি, করব না। সিআইডি কী? আমি এদের ইডি-সিবিআইয়ের সামনেও মাথা নত করিনি। আমি আইনের দ্বারস্থ হব। আমার সেই অধিকার আছে। পারলে আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাক।’’ 

অভিষেকের দাবি, "আমার তো লুকানোর কিছু নেই। বিগত দিনেও যখন আমাকে ইডি সিবিআই, এমনকি দিল্লীতেও ডেকেছে আমি সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছি, সহযোগিতা করেছি। এখানেও আমাকে যখন ডেকেছে নবজোয়ারের সময় আমার পদযাত্রা আটকে কর্মসূচি আটকে একবার সিবিআই ডেকে পাঠিয়েছে, একবার ইডি ডেকে পাঠিয়েছে। আমি গিয়েছি। কিছু না হলেও প্রায় ১০ থেকে ১২ বার দিল্লি কলকাতা মিলিয়ে এদের কাছে অ্যাপিয়ার করেছি। আমি তো কোথাও পালিয়ে যাইনি। যদি কেউ ভাবে যে ডেকে ভয় দেখিয়ে জোর করে জবরদস্তি ফেক কেসে ইমপ্লিকেট করে জেলে ঢুকিয়ে আমাদের সম্মান নষ্ট করবে, তবে আমরা ঐ ধাতুতে তৈরি নই।"

সূত্রের খবর, আগামী সোমবার বেলা ১২টার সময়ে ভবানী ভবনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে তলব করেছে সিআইডি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

শনিবার দুপুরে হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক ব্যানার্জির বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। শনিবার দুপুরে হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাড়ি ১৮৮-এ শান্তিনিকেতন বিল্ডিংয়ে পৌঁছয় সিআইডির পাঁচ সদস্যের একটি দল। সেখানে তাঁরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। অনেকক্ষণ পরে বাড়ির ভিতর থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে দাবি করেন, অভিষেক ব্যানার্জি বাড়িতে নেই। বাড়িতে বর্তমানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও কেউ নেই। কোথায় গেছেন, তিনি জানেন না।

এরপর আধিকারিকরা ওই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা নোট করেন। সিআইডি আধিকারিকরা তারপরেও বাড়ির বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ এই অবস্থা চলার পর তাঁরা চলে যান। বিধানসভার সই কাণ্ডের তদন্তে অভিষেককে একটি নোটিশ দিতেই আধিকারিকরা পৌঁছেছেন বলে সূত্র মারফত খবর।