আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-র তরফে নোটিশ হাতে পাওয়ার পরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির। বিধানসভার সই কাণ্ডের তদন্তে শনিবার দুপুরে অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। 

সেখানে তাঁরা অভিষেককে একটি নোটিশ দেন। নোটিশ হাতে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেন অভিষেক।

বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের নাম পরপর বলে নারদা কাণ্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে অভিষেকের অভিযোগ, ‘বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে টিভি ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখা যায়নি।’ 

অভিষেক বলেন, ‘যারা তৃণমূলকে চোর বলছে, বাংলায় স্বাধীনতার পর প্রফুল্ল সেন, প্রফুল্ল ঘোষ, অজয় মুখোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়, পরবর্তীকালে সিপিএম জমানায় জ্যোতি বসু, বুদ্ধ ভট্টাচার্য, পরিবর্তনের পালাবদলের পর মমতা ব্যানার্জি সহ কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে নির্লজ্জ, দু’কান কাটার মত টিভি ক্যামেরার সামনে হাত বার করে টাকা নিতে দেখা যায়নি। এখন বাংলার যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তাকে টিভির পর্দায় নির্লজ্জের মত, দু’কান কাটার মত হাত বাড়িয়ে টাকা নিতে, ঘুষ নিতে দেখা গেছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এরা আমাদের চোর বলে। মানুষ বোকা নয়, যারা লুঠপাট করে ক্ষমতায় এসেছে, যেভাবে রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় এসেছে, এর বিচার মানুষ আগামী দিনে করবে। এই বিশ্বাস আমার জনগণের ওপর এবং গণতন্ত্রের ওপর আছে।’ 

অভিষেকের এই মন্তব্যের পর পাল্টা তৃণমূল সাংসদকে প্রশ্ন করা হয়, যে ইস্যুকে ঘিরে শুভেন্দুকে অভিষেক আক্রমণ করছিলেন সেই ঘটনার সময় তো রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলে ছিলেন।

ডায়মন্ডহারবারের সাংসদের জবাব, ‘তৃণমূল কি টাকা নিতে বলেছে? তাহলে যখন তৃণমূলে ছিলেন তখন তিনি বললেন না কেন? তৃণমূল কি তাকে টাকা নিতে বলেছে? তিনি কি পার্টি অফিসে বসে টাকা নিয়েছেন? তা তো নেননি। যখন তাকে ইডি, সিবিআই ডেকেছিল ২০১৮-১৯ সালে, যখন নারদা কাণ্ডের তদন্ত চলছিল তখন তো তিনি কিছু বলেননি।’

প্রসঙ্গত, নোটিশ হাতে নিয়ে এদিন অভিষেক সাফ জানান, ‘ক্ষমতা থাকলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। কী ভাবেন আমাকে? আমি আইনত লড়ব। আপনি ফলস কেসে ইমপ্লিকেট করে আমাকে গ্রেপ্তার করবেন।’ 

ফের একবার তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের বক্তব্য, ‘সিআইডি আপনার, ইডি আপনার, সিবিআই আপনার, কলকাতা পুলিশ আপনার, ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশ আপনার। আপনি নিয়ে যান। আমি তো বলে যাচ্ছি। আমি এখানেই আছি।’