চলতি বছর কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সার্ধশতবর্ষ। সমাজবাস্তবতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নারীমুক্তির চেতনায় ঋদ্ধ তাঁর সাহিত্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সেই ভাবনাকেই এবার সরস্বতী পুজোর থিমে রূপ দিল যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুল। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে, এই বছর তাঁদের সরস্বতী পুজো উৎসর্গ করা হয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার জানান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার ছবি শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য। মানবমনের অন্তঃপুরে প্রবেশ করে তিনি সৃষ্টি করেছেন ‘রমা’, ‘রাজলক্ষ্মী’, ‘কিরণময়ী’, ‘কমললতা’র মতো অসামান্য নারীচরিত্র। তিনি নিজেই বলেছিলেন ‘যারা বঞ্চিত, যারা দুর্বল, উৎপীড়িত… এদের বেদনাই দিলে আমার মুখ খুলে।’ এই বাণী আজও আমাদের মনে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয়- ভেদাভেদহীন, মানবিক এক সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। বিশেষ করে এই সময়ে শরৎচন্দ্র তো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।”

শুধু নারীচরিত্র নয়, শরৎচন্দ্রের গল্প-উপন্যাসের বহু চরিত্র –‘শ্রীকান্ত’, ‘ইন্দ্রনাথ’, ‘সব্যসাচী’ কিংবা শিশু চরিত্র ‘লালু’ আজও পাঠকের মনে জাগরুক। এই চরিত্রগুলি সাহস, মানবিকতা ও আত্মমর্যাদার পাঠ দেয়, বড় হয়ে ওঠার প্রেরণা জোগায়।

বিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের শিক্ষক তথা পুজোর অন্যতম আয়োজক প্রদীপ কুমার কর জানান, এই ভাবনাকে সামনে রেখেই এবছর সরস্বতী পুজোর মণ্ডপসজ্জা, প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শরৎচন্দ্রের জীবন ও সাহিত্যকর্মকে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, “ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সাহিত্যচেতনা, মানবতাবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই এই থিমের মূল উদ্দেশ্য। জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের মিলনস্থল হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে একটি সাহিত্যিক আবহে রাঙিয়ে তুলতে চাই আমরা।”
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সোমনাথবাবুও মনে করেন, এই থিম ছাত্রদের মধ্যে সাহিত্যচেতনা ও মানবিক বোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ইংরেজির শিক্ষিকা সুদীপ্তা রায়ের বক্তব্য, জ্ঞান ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের সংযোগ ঘটিয়ে এই সরস্বতী পুজো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে এক মহতী সাহিত্যিক পরিবেশে রূপ দেবে।
সার্ধশতবর্ষে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকে স্মরণ করে, যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সরস্বতী পুজোয় এক ব্যতিক্রমী ও ভাবনাপ্রবণ মাত্রা যোগ করেছে।
