বিউ সরকার

রাজ্যের জনগণের অভাব অভিযোগ শুনতে চালু করা হয়েছে ‘জনতার দরবার’। প্রতিটি কর্মসূচিতে মানুষের অভিযোগ মন দিয়ে শুনছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সল্টলেক রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ বসেছিল। প্রতিবারও মতো আজও মানুষের কথা শুনলেন এবং প্রকৃত সমাধানের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই কর্মসূচিতেই সামনে এল এক বিরাট অভিযোগ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির গড় ভবানীপুরে এক মহিলার বাড়ি ও মন্দির কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে।

বুধবার জনতার দরবারে এসে অভিযোগ জানান আইনজীবী মোনালিসা দত্ত  এবং আইনজীবী রূপা মাইতি। আজকাল ডট ইন-কে তিনি জানান, “ভবানীপুরে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের ২২ কাঠা দেবোত্তর জমি রয়েছে। প্রায় ২০০ বছরের জমি। আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে জমি মাফিয়ারা।” 

তাঁর অভিযোগ, “আগের সরকারের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। আগের মুখ্যমন্ত্রী তো নিজে চিঠি নিতেন না। স্বরাষ্ট্সচিব, মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে কোনও লাভ হয়নি। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভা হয়নি। আমার ওকালতির ডিগ্রির কাগজ দেখে তা নকল বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।” মোনালিসার আরও অভিযোগ, “তৃণমূল নেতা সাহেব আলম, নাটা পাপ্পু, একবালপুর থানার ওসি সাজিদ মল্লিক, ওয়াটগঞ্জ থানার ওসি আমানউল্লা এর সঙ্গে জড়িত।”

মোনালিসা জানিয়েছেন, “ভবানীপুর বিধানসভার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবালপুর থানার অন্তর্গত ৪১ নম্বর ডেন্ট মিশন রোড ও ৪৭ নম্বর রোড ডেণ্ট মিশন রোডে প্রায় ২০০ বছরের মন্দিরের সঙ্গে বাড়ি ছিল। সব দখল করে নেওয়া হয়েছে। আমায় হোটেলে দিন কাটাতে হচ্ছে।” 

আইনজীবী রূপা মাইতির অভিযোগ, “এর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম জড়িত। আমাদের মন্দিরে পুজো করতে দেওয়া হত না। বাজনা বাজাতে দেওয়া হত না। ১৬ বছর ধরে পুজো। শেষ বছর থেকে পুলিশ নানা কারণে বাধা দিতে শুরু করে।”

দু’জনেই জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে গোটা বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। শীঘ্রই পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।