বিউ সরকার
তারাতলা ট্র্যেজেডি। দুপুর ১২টার কয়েক মিনিট পর ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জানা গিয়েছে, অন্তত ১৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পরেই সেখানে হাজির হয়েছেন রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, যাচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাজির দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, চিকিৎসকদের টিম। প্রশ্ন উঠছে, বিরাট নির্মাণকার্যের নিয়মাবলী নিয়েও। স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় গফিলতি রয়েছে নির্দিষ্ট সংস্থার। সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে এই নির্মাণকাজ চলছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। উল্লেখ্য, এই রাকেশ ওই এলাকায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন।
এবার সামনে এল প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য। তারাতলার ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী আজকাল ডট ইন-কে জানান, 'বিরাট একটা আওয়াজ হল, তারপরেই আশেপাশের বাড়ির দরজা-জানলা কাঁপছিল। দুপুর ১২টা নাগাদ ঘটল ঘটনাটা। এসে দেখলাম, তিনটি বিল্ডিং পুরো ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজ চলছিল। ভিতরে কেউ ঢুকতে পারত না। ভয়ানক পরিস্থিতি।'
সঙ্গেই তাঁর সংযোজন, 'যারা কাজ করছিল, তারা কত জন, জানি না। সেটাই বুঝতে পারছি না। ৪০ নাকি ৫০ জন, জানি না। হাত বের হয়ে ছিল এক জনের, মাথা ফেটে ঘিলু দেখা যাচ্ছিল। অন্ধকারে বুঝতেই পারছিলাম না, পুরুষ নাকি মহিলা। ভয়ঙ্কর অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
ব্রেসব্রিজ ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে মঙ্গলবার বেলা বারোটা নাগাদ এই ছাদ ভেঙে পড়ে। গোডাউনটি সম্ভবত চা মজুত করার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই গোডাউনের নির্মাণকাজ চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। সেখানে চলছিল ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। এদিনও অন্যদিনের মতো কর্মীরা এসেছিলেন কাজে। কাজ শুরু হওয়ার পর তাঁরা ঘটনার সময় একজায়গায় বসে চা খাচ্ছিলেন বলে খবর। সেই সময়েই অতর্কিতে ভেঙে পড়ে ছাদ। সঙ্গে-সঙ্গে ভিতরে আটকে পড়েন অনেকে।
ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে খবর। ভিতরে কম করে ৫০-৬০ জন আটকে থাকতে পারে বলেও অনেকে বলছেন। যদিও মৃত্যুর খবর বা আটকে থাকার খবর প্রশাসনের তরফ থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কেউ কেউ বলছেন আটকে পড়া শ্রমিকদের সংখ্যা ২৫-এর কাছাকাছি। একে একে উদ্ধার করা হচ্ছে আহতদের। হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত নয় এখনও।















