আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোখের মুহূর্তে, নিমেষে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মান তিনতলা ভবন। ভেঙে পড়ে লোহার বিম। আটকে পড়েন বহু মানুষ। মুহূর্তে গোটা এলাকায় আতঙ্ক, হাহাকার চিৎকার। প্রায় তিনঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তারাতলায় চলছে উদ্ধার কার্য। একে একে আহত, আটকে পরা মানুষদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালে। 

 

দুপুর ১২টার কয়েক মিনিট পর  ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত জানা গিয়েছে, অন্তত ১৩ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পরেই সেখানে হাজির হয়েছেন রাজ্য সরকারের একাধিক মন্ত্রী, যাচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাজির দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, চিকিৎসকদের টিম। প্রশ্ন উঠছে, বিরাট নির্মাণকার্যের নিয়মাবলী নিয়েও। স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় গফিলতি রয়েছে নির্দিষ্ট সংস্থার। সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে এই নির্মাণকাজ চলছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা রাকেশ সিং। উল্লেখ্য, এই রাকেশ ওই এলাকায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। 

তারাতলায় নির্মিয়মাণ গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ল বুধবার দুপুর নাগাদ। আর সেই ভেঙে পড়া ছাদে আটকে পড়লেন অসংখ্য মানুষ, বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ভেঙে পড়া গোডাউনের ভিতর থেকে আটকে পড়া মানুষেরা চিৎকার করে জানান দিচ্ছেন, তাঁদের এখনও প্রাণ আছে। সব মিলিয়ে বুধবার সকালে মর্মান্তিক পরিস্থিতি দেখতে পেল কলকাতা। 

ব্রেসব্রিজ ট্রান্সপোর্ট ডিপোর কাছে মঙ্গলবার বেলা বারোটা নাগাদ এই ছাদ ভেঙে পড়ে। গোডাউনটি সম্ভবত চা মজুত করার জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই গোডাউনের নির্মাণকাজ চলছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। সেখানে চলছিল ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। এদিনও অন্যদিনের মতো কর্মীরা এসেছিলেন কাজে। কাজ শুরু হওয়ার পর তাঁরা ঘটনার সময় একজায়গায় বসে চা খাচ্ছিলেন বলে খবর। সেই সময়েই অতর্কিতে ভেঙে পড়ে ছাদ। সঙ্গে-সঙ্গে ভিতরে আটকে পড়েন অনেকে।

ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে খবর। ভিতরে কম করে ৫০-৬০ জন আটকে থাকতে পারে বলেও অনেকে বলছেন। যদিও মৃত্যুর খবর বা আটকে থাকার খবর প্রশাসনের তরফ থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কেউ কেউ বলছেন আটকে পড়া শ্রমিকদের সংখ্যা ২৫-এর কাছাকাছি। একে একে উদ্ধার করা হচ্ছে আহতদের। হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত নয় এখনও।