আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলে গিয়েছিল। দল থেকে সাসপেন্ড হতেই কাদা ছোড়াছুড়িও হয়েছিল। ভোট মিটতেই, বিধানসভায় পা রাখতেই কি 'বিতর্কিত' অধ্যায় অতীত হল! বিধানসভায় প্রথম দিনেই বিধায়ক ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। 

 

প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ বর্তমানে বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এদিন সাংবাদিকদের সামনেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে হাসি মুখে আলাপচারিতা করেন। 'ভাল আছ?' বলে নিজেই কথা শুরু করেন ফিরহাদ। হুমায়ুনকে জড়িয়েও ধরতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। 

 

বিরোধী হিসেবে ফের বিধানসভায় পা রাখার পর ফিরহাদ এদিন বলেন, "আমরা আগেও বিরোধী হিসেবে ছিলাম। আমি বিরোধী দলের বিধায়কও ছিলাম। সেই অনুযায়ী সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া, গঠনমূলক বিরোধিতা করা, সেই কাজটা নিশ্চিতভাবে আমরা আবার করব।" 

 

তিনি আরও বলেন, "জীবনে সবসময় পরিবর্তন হতেই থাকে। আগে আমি ছেলে ছিলাম, পরে স্বামী হলাম এবং বাবা হয়েছি। এবার পরিবর্তন হল। আবারও পরিবর্তন হবে। সেই শুভ আশাতেই মানুষ বেঁচে থাকে। আমাদের যা কাজ, যে কারণে আমাদের ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, মানুষের কাজ করে যাওয়া, সরকারের কাছে বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা, মানুষের ভালর জন্য যে ইস্যু তুলে ধরা যায়, সেগুলো নিশ্চিতভাবে করব।" 

 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি বিধায়কদের নানা প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে ফিরহাদ পাল্টা বলেন, "বৃক্ষ তোমার পরিচয় কী, ফলেন পরিচয়।" 

 

অন্যদিকে নওদা ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। আগেই রেজিনগর কেন্দ্র ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এদিন নওদা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। এদিন বিধানসভায় ৫০০ পিস ছানাবড়া ও ১৫০ পিস মনোহরা নিয়ে উপস্থিত হন তিনি।

 

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও জড়িয়ে ধরেন হুমায়ুন। মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন। মিষ্টি হেসে হুমায়ুন বলেন, "অনেকে অনেক কিছু বলেছিলেন, আমি কিন্তু দুটো আসনে জিতে এসেছি। আমি চাই নতুন সরকার ভাল কাজ করুক। দারুণ কাজ চলুক। যাতে কারও কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলব।" মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে তিনি এও বলেন, "উনি ভাল লোক। নিশ্চয়ই সব ভাল কাজ করবেন।"