আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। রাজ্যে নারী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়েও কড়া পদক্ষেপ করার কথাও দিয়েছিল। পালাবদলের পরেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা শুরু। সরকার গঠনের পর এবার আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ফের ফাইল খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আরজি কর হাসপাতালে হাজির হলেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি।
আজ অভয়া কাণ্ডে নিয়ে আরজিকর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে নিরাপত্তার দিকটিও খুঁটিনাটি দেখেন তিনি।
এদিন আরজি কর হাসপাতালে এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে যান অভিজিৎ। সেখানে গিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেন, "আমি যে ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, সেটি অভয়ার মৃত্যু মামলায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখনও ঘরটি তালাবন্ধ রয়েছে। অভয়ার মৃতদেহ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, এই ঘর দিয়েই সেখানে যাওয়া যায়। এগুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়নি। এটা সিবিআইয়ের গাফিলতি। আমি গিয়েছিলাম কারণ, তদন্তে সিবিআই-এর যিনি কর্তা ছিলেন, সীমা পাহুজা, দু'টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেননি। এই ঘরে ঢুকলেই সিবিআই আধিকারিকরা অনেক কিছু উদ্ধার করতে পারবেন। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি সিবিআইকে অনুরোধ করব, এই ঘরের মধ্যে ঢুকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সব খতিয়ে দেখা হোক।"
অভিজিৎ গাঙ্গুলি আরও বলেন, "একটা সিঁড়ি আছে, যে সিঁড়ি দিয়ে একটা ডেডবডি নামানো হয়েছিল, যেদিন অভয়া মারা যায়, খুন হয়, সেদিন রাতে। একজন নার্স সেই ভিডিও তুলেছিলেন। সেই ভিডিও সিবিআই-এর সীমা পাহুজা নিয়ে নেন এবং বলেন, 'আপনি নিজের ভিডিওটা মুছে দিন। নইলে আপনি বিপদে পড়বেন'। কে আর বিপদে পড়তে চায়? তিনি ভিডিওটা মুছে দেন, কপিটা দিয়ে দেন সিবিআই-এর সীমা পাহুজাকে। তার পর থেকে আর কখনও ভিডিওটা সর্বসমক্ষে আসেনি। আমি গোটা সিবিআই-কে দোষ দিচ্ছি না। আমি দোষ দেখছি নির্দিষ্ট ওই অফিসারের। তাঁকে অভিযুক্ত হিসেবে যুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।"
প্রসঙ্গত, আরজিকর কাণ্ডে গতকাল কড়া পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। সাসপেন্ড করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের তিন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তকে।
গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলন করে এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের এই তিন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের কী ভূমিকা ছিল, আদৌ তাঁরা পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। সাসপেন্ড না করে তদন্ত করা যাবে না এই তিন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'দায়িত্ব নেওয়ার পরে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, লিখিত চেয়েছিলাম আরজিকরের ঘটনার ব্যাপারে।'
তিনি জানান, আরজিকরের ঘটনার সময় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তার পরের কিছু বিষয় নিয়ে তারা কী কী পদক্ষেপ করেছে তা জানতে সম্প্রতি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে গত কয়েকদিন ধরে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিংয়ের কাজ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমরা একটা সিদ্ধান্তে এসেছি। ওই সময়ে যে ঘটনা ঘটেছিল সেটাকে বিপথে পরিচালিত করা, সঠিক ভাবে এফআইআরের পর তদন্ত না করা। যেটা পুলিশের করা উচিত ছিল। আমরা মূল তদন্তের দিকে যাচ্ছি না। কারণ, ওটা সিবিআই করছে, আদালতে মামলা বিচারাধীন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা শুধুমাত্র আমাদের সরকারের যে লোকরা ছিল বিশেষ করে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন সিপি সহ যারা সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক ছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত করব। সবচেয়ে বড় অভিযোগ যেটা, আমাদের কাছে সংবাদমাধ্যম মারফত নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ এসেছে যে দু'জন পুলিশ অফিসার রাজ্য সরকারের তরফে টাকা দিতে চেয়েছিলেন অভয়ার পরিবারকে।'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'তদন্ত করতে হবে আদৌ অভিযোগ সত্যি কিনা। কিন্তু আমরা মনে করি যে এই তদন্তগুলি করতে গেলে যে অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের সাসপেনশনে রেখে তদন্ত করতে হবে। নইলে, তদন্তে স্বচ্ছতা থাকবে না। সিবিআইয়ের তদন্তে আমরা ঢুকছি না।'
















