বিভাস ভট্টাচার্য: পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। খিদে নেই। যা খাচ্ছেন বমি হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন শরীরের ওজন কমতে থাকে। সেই সঙ্গে মলত্যাগের সময় রক্তপাত হচ্ছিল। গত ছ’‌মাস ধরে রোগী এদিক ওদিক বিভিন্ন চিকিৎসকদের কাছে ঘুরে চিকিৎসা করালেও সাময়িক সুরাহা হয়‌। কিন্তু ফের কয়েকদিন পরেই আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।‌ এরপর অন্যান্যদের পরামর্শে রোগী আসেন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে। পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা দেখেন রোগীর খাদ্যনালীতে একটি ফুলকপি আকৃতির টিউমার তৈরি হয়েছে এবং যার অস্ত্রোপচার করা এখুনি দরকার। সোমবার ৪ ঘন্টা ধরে অস্ত্রোপচার করে টিউমার বাদ দেওয়া হয়। আপাতত রোগী সুস্থ আছেন বলে জানা গিয়েছে। গোটা অস্ত্রোপচারের নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের সার্জন ডাঃ নিলয় নারায়ণ সরকার। 

এবিষয়ে ডাঃ নিলয় জানিয়েছেন, ‘‌রোগী একজন পুরুষ এবং বয়স ৬০ বছরের কাছাকাছি। গত একবছর ধরে তাঁর এই সমস্যা হচ্ছিল। যেহেতু মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হচ্ছিল সেজন্য তিনি ভেবেছিলেন তাঁর অর্শ রোগ হয়েছে। সেইমতো তিনি চিকিৎসাও করেছিলেন। কিন্তু গত ছ’‌মাস ধরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছিল। যার মধ্যে ওজন কমে যাওয়া, একেবারেই খিদে না থাকা বা রক্তপাতের মতো বিষয়গুলো হচ্ছিল। রোগী নিজেও বুঝতে পারেন তাঁর শরীর খারাপ হচ্ছে। এরপর তিনি আসেন এই হাসপাতালে। সেখানেই পরীক্ষা করে টিউমারটি দেখা যায় এবং দেখা যায় রোগীর শরীরে ভয়ঙ্কর রক্তাল্পতা। আমরা সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।’‌ 

সোমবার ৪ ঘন্টা ধরে এই অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল। ডাঃ নিলয় নারায়ণ সরকার ছাড়াও ছিলেন আরেক সার্জন ডাঃ ইন্দ্রানী হালদার। সহযোগিতায় ছিলেন ডাঃ অনুভব সাহা এবং ডাঃ সতীশ কৌশিক। ছিলেন অ্যানেস্থেটিস্ট ডাঃ বি এন দাস, ডাঃ হিমালয় দত্ত এবং ডাঃ সরফরাজ রহমান। ‘‌নার্সিং টিম’‌–এ ছিলেন রেখা মহাপাত্র, অন্বেষা জানা লাবণী হোড় এবং অসীমা দাস। সফল এই অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল সুপার ডাঃ শিশির নস্কর সকলকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন। ডাঃ নিলয়ের কথায়, রোগীর আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভাল নয়। বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার হলে রোগীকে বিরাট খরচের মুখোমুখি হতে হত। যেহেতু এটা সরকারি হাসপাতালে হয়েছে সেজন্য তাঁকে একটি টাকাও খরচ করতে হয়নি।