আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতি বছরের মতোই এ বারও শিক্ষা মেলার আয়োজন করল অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রফেশনাল অ্যাকাডেমিক ইনস্টিটিউশন্স, ওয়েস্ট বেঙ্গল (আপাই-ডব্লিবি)। পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার সুযোগবৃদ্ধি, সঠিক কেরিয়ার নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে আপাই-এর এই উদ্যোগ। রাজ্যের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার জন্যই 'আপাই-ডব্লিউবি প্রি কাউন্সেলিং অ্যান্ড এডুকেশন ফেয়ার ২০২৬'-এর আয়োজন করা হয়েছে। আজ এবং আগামীকাল কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দু'দিনব্যাপী এই মেলা চলবে।
উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য, রাজ্যের পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার পথচলাকে আরও প্রশস্ত করা। আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ রাজ্য তথা দেশের বিদ্বজ্জনেরা। মেলায় উপস্থিত ছিলেন টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী।
এ দিনের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত ভট্টাচার্য জাতীয় শিক্ষানীতির গুরুত্বে বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, "শিক্ষামেলা আয়োজনের জন্য আপাই-এর কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করতে ও সঠিক কেরিয়ার বেছে নিতে সাহায্য করবে এই মেলা।"
তিনি বলেন, "এখন আর আগের মতো ডিগ্রিভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব নেই। এখন পড়ুয়ারা হাতেকলমে কী কী করতে পারছে, সেটা অনেক বেশি জরুরি। পড়ুয়াদের দক্ষতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি, আর্কিটেকচার, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি-র মতো বিষয় এ যুগে গুরুত্বপূর্ণ।"
তাঁর বক্তব্য, "জাতীয় শিক্ষানীতিতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই অষ্টম শ্রেণি থেকে স্কিল শিক্ষায় জোর দিতে হবে। ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে রাজ্য। তাই শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক শিক্ষা নয়, স্কিল বেসড প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। রাজ্য সরকারের উচিত পড়ুয়ারা যাতে স্কিল শিক্ষায় আগ্রহী হয়, সে দিকে নজর রাখতে হবে।"
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, "এই উদ্যোগটি বহুদিনের। প্রায় ২২-২৩ বছর ধরে চলছে আপাই মেলা। দিনের পর দিন এর পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় একশোর কাছাকাছি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই মেলায় যোগ দিয়েছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান যোগও দিতে পারেনি। তাই আগামী বছর থেকে আরও বড় আকারে মেলা আয়োজনের চেষ্টা করব। আমরা চাই, এই মেলার মাধ্যমে এক ছাতার তলায় সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আসতে। এখানে এসে কয়েক হাজার পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবক জানতে পারছেন, উচ্চশিক্ষার জন্য তারা কোন কোর্স বা কোন কলেজ বেছে নিতে পারে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা সরাসরি কথাও বলতে পারছে। বাংলার পড়ুয়ারা যাতে এখানেই থাকতে পারে এবং 'মেধা পাচার' না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। দু'দিনের মেলা শেষে আমরা একটি রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেব। পাশাপাশি আবেদন জানাব, যাতে শিল্পকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যের পড়ুয়াদের এখানেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়।"
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রায় একশোর কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যোগদান করে। শিক্ষামেলায় উপস্থিত ছিলেন হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং অভিভাবক। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মতামত, এই প্রয়াস তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও প্রসারিত করতে সাহায্য করবে। আগামী দিনে পড়ুয়ারা সারা বিশ্বের কাছে নিজেদের মেলে ধরতে পারবে এবং এগিয়ে যেতে পারবে। এই শিক্ষা মেলা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাকে নয়, ছাত্রছাত্রীদেরও ভবিষ্যত নিয়ে আরও উন্নত ভাবনা ভাবতে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে তাদের সঠিক পথে নিজেদের ভিত মজবুত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কলকাতার একটি স্কুলের শিক্ষিকা বলেন, "এই প্ল্যাটফর্ম আমাদের ছাত্রীদের ভীষণ ভাবে সাহায্য করছে। এমন অনেকেই আছে, যাদের পরিবারে কেউ শিক্ষিত নয় বা স্বাক্ষর পর্যন্ত করতে পারে না। তাও মাধ্যমিকে ভাল ফল করেছে। এই প্ল্যাটফর্ম তাদের কাছে এক প্রকার স্বর্গের মত। তারা নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা অনুযায়ী পছন্দমত বিষয় বেছে নিতে পারবে। এর ফলে আগামীর চলার পথ অনেক বেশি প্রশস্ত হবে। এমন একটি অনুষ্ঠানে আমরা এবং আমাদের ছাত্রীরা আসতে পেরে খুব আনন্দিত।"
















