আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইন্টারনেট দুনিয়ায় অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্টের জন্য পরিচিত জনপ্রিয় স্ট্রিমার আইশোস্পিড (IShowSpeed) আবারও চমকে দিলেন নেটদুনিয়াকে। এবার তিনি যে কাণ্ড ঘটালেন, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির প্রাণী চিতার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা।

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আইশোস্পিড একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যার ক্যাপশন ছিল, “I raced a cheetah!”। পোস্ট হতেই ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ ভিউ এবং হাজার হাজার মন্তব্যে ভরে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। নেটিজেনদের একাংশ যেমন তাঁর সাহস দেখে বিস্মিত, তেমনই আরেক অংশ এই কাজকে নিছক বেপরোয়া ও বিপজ্জনক বলে সমালোচনা করছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, আইশোস্পিড দর্শকদের উদ্দেশ্যে উত্তেজিত গলায় জানান যে তিনি একটি পূর্ণবয়স্ক চিতার সঙ্গে দৌড়াতে যাচ্ছেন। ক্যামেরা ঘুরতেই পাশে দাঁড়ানো চিতাটিকে দেখা যায়। “আজ আমি এই চিতার সঙ্গে রেস করব,” বলতে গিয়ে তাঁর গলায় নার্ভাসনেস ও উত্তেজনা-দুটোই স্পষ্ট।

তবে দৌড় শুরু হওয়ার আগেই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত ঘটনা। হঠাৎ করেই চিতাটি আইশোস্পিডের পায়ের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাতে তাঁর পায়ে স্পষ্ট আঁচড়ের দাগ পড়ে এবং দুটি গভীর ক্ষত দেখা যায়। পরিস্থিতি যে মারাত্মক আকার নিতে পারত, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এত কাছ থেকে বিপদের মুখোমুখি হয়েও আইশোস্পিডকে বিশেষ বিচলিত হতে দেখা যায় না। তিনি সেই ঘটনাকে প্রায় পাত্তাই না দিয়ে আবারও দৌড়ের প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

কিছুক্ষণ পর দু’জনকে, একজন মানুষ, অন্যজন চিতা, স্টার্টিং লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। কাউন্টডাউন শুরু হতেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। কাউন্টডাউন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইশোস্পিড সর্বশক্তি দিয়ে দৌড় শুরু করেন। অন্যদিকে চিতা যেন অনায়াসে, খুব সামান্য শক্তি প্রয়োগ করেই তাঁর পাশে ছুটতে থাকে। শেষ কয়েক সেকেন্ডে চিতা সহজেই গতি বাড়িয়ে সামনে চলে যায় এবং স্বচ্ছন্দে ফিনিশিং লাইন পার করে।

ভিডিওটি প্রকাশের পরই অনলাইনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “স্পিড সত্যিই ভালোই দৌড়াচ্ছিল, কিন্তু চিতা তো নিজের সর্বোচ্চ গতির ২৫ শতাংশও ব্যবহার করেনি।” আরেকজন অবাক হয়ে লেখেন, “ওকে কি সত্যিই চিতাটা আক্রমণ করেছিল?”

আইশোস্পিডের এই কাণ্ড নিয়ে প্রশংসা ও উদ্বেগ, দুটোই সমানভাবে উঠে এসেছে। অনেকে তাঁর সাহসের তারিফ করলেও, অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন বন্য প্রাণীর সঙ্গে এ ধরনের স্টান্ট কতটা নিরাপদ এবং দায়িত্বশীল। তবুও একথা মানতেই হচ্ছে, চিতার সঙ্গে দৌড়ে প্রতিযোগিতার এই ঘটনা আইশোস্পিডের ‘অসম্ভবকে সম্ভব করা’ ইমেজকে আরও এক ধাপ শক্তপোক্ত করল, যে কাজ সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে সাহস পায় না, সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।