আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের পথে। এদিন ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তারপরেও ইরানে আরও ভয়ঙ্কর হামলার হুমকি দিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব। মঙ্গলবার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলার হুমিকি দিয়েছেন তিনি। 

মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, আজ ইরানে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হামলা করা হবে।  ওয়াশিংটনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হেগসেথ বলেন, ইরান ‘মারাত্মকভাবে পরাজিত হয়ে যাচ্ছে’। তাঁর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের হার ছিল সবচেয়ে কম। 

হেগসেথ আরও জানিয়েছেন, 'আজ ফের, ইরানে আরও ভয়ঙ্কর হামলা করতে চলেছি আমরা। বিস্ফোরণ, ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ, আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হবে।' 

এদিকে, এদিন এরই মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। দাউদাউ করে জ্বলছে বিভিন্ন শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। গত কয়েক ঘণ্টায় তেহরানের পূর্বাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসফাহান, তাবরিজ ও আহভাজ-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর মিলেছে। অন্যদিকে ইরান সরকার সাফ জানিয়েছে, পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে। ইরান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এখনই যুদ্ধবিরতির কোনও সম্ভবানা নেই। 

প্রসঙ্গত, ইরানে ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রায় শেষের পথে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবির পরেই মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে বড়সড় বদল দেখা গেল। অপরিশোধিত তেলের দাম আচমকাই কমে যায়। অন্যদিকে শেয়ার বাজারে হঠাৎই উত্থান দেখা গেল। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়লেও এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হওয়ার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। 

তবে ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ তাঁর প্রাথমিক সময়সূচির তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে গেছে। ওদের নৌবাহিনী নেই, যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, বিমানবাহিনীও নেই।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘সামরিক দিক থেকে দেখলেও ইরানের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ ট্রাম্প জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু তার তুলনায় মার্কিন বাহিনী বর্তমানে অনেকটাই এগিয়ে। পরে ফ্লোরিডায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তাহলে ইরানের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।’  

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। মঙ্গলবার ইরানের এই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ কবে শেষ হবে সেটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, ঠিক করবে ইরানই।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আইআরজিসির এক মুখপাত্র ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যদি হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে হরমুজ প্রণালী থেকে ‘এক লিটার তেলও’ রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা হয় ‘সবার জন্য, নয়তো  কারও জন্য নয়।’ অর্থাৎ উত্তেজনা আরও বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে তেল পরিবহণেও বড় প্রভাব পড়তে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়ে রাখল ইরান।