আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের রাজকীয় ধনভাণ্ডার বা “ইরানিয়ান ক্রাউন জুয়েলস” বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান রাজকীয় সম্পদের মধ্যে অন্যতম। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পারস্যের বিভিন্ন সম্রাট এই সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন। আজ এই রত্নভাণ্ডার সংরক্ষিত আছে তেহরানের সেন্ট্রাল ব্যাংকের ভল্টে, যাকে বলা হয় ন্যাশনাল জুয়েল ট্রেজারি।
এই সংগ্রহের প্রকৃত মূল্য কত—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর আজও কেউ দিতে পারেননি। কারণ এতে এমন অনেক বিরল হীরে, পান্না ও রত্ন রয়েছে যার বাজারমূল্য নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পুরো সংগ্রহের মূল্য ২০ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে।
শতাব্দী জুড়ে জমে ওঠা সম্পদ
ইরানের ক্রাউন জুয়েলসের ইতিহাস কয়েকশো বছর পুরোনো। বিশেষ করে সাফাভিদ, আফশার ও কাজার রাজবংশের শাসকরা ভারত ও মধ্য এশিয়া থেকে যুদ্ধলব্ধ ধনসম্পদ নিয়ে এসে এই ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেন।
১৭৩৯ সালে পারস্যের শাসক নাদির শাহ দিল্লি আক্রমণ করে মুঘল সাম্রাজ্যের বিপুল ধনরত্ন লুট করেন। সেই লুট করা সম্পদের বড় অংশই পরে ইরানের এই রাজকীয় সংগ্রহে যুক্ত হয়।
বিখ্যাত কিছু রত্ন
এই ধনভাণ্ডারে রয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি রত্ন ও অলংকার। যেমন—
দারিয়া-ই-নূর হীরা
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গোলাপি হীরাগুলোর একটি। এর ওজন প্রায় ১৮২ ক্যারেট এবং এটি ইরানের রাজমুকুটের সবচেয়ে বিখ্যাত রত্নগুলোর একটি।
পেহলভি ক্রাউন
১৯২৬ সালে রেজা শাহের রাজ্যাভিষেকের জন্য তৈরি করা এই মুকুটে রয়েছে ৩,৩৮০টি হীরা, পান্না, নীলা ও শত শত মুক্তা।
কিয়ানি ক্রাউন
কাজার রাজাদের ঐতিহ্যবাহী মুকুট, যার ওপর বসানো আছে শত শত পান্না, রুবি ও প্রায় ১,৮০০টি মুক্তা।
জুয়েলড গ্লোব
৩৪ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি এই গ্লোবটিতে বসানো আছে ৫১,০০০-এর বেশি রত্ন—হীরা, পান্না, রুবি ও নীলা।
জাতীয় অর্থনীতির অংশ
ইরানের এই রাজকীয় ধনভাণ্ডার শুধু ঐতিহাসিক নয়, অর্থনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৩৭ সালে এই রত্নগুলো রাষ্ট্রের মালিকানায় আনা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এগুলো দেশের মুদ্রার আর্থিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
কেন “অমূল্য” বলা হয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংগ্রহের মূল্য কেবল হীরা-সোনা দিয়ে মাপা যায় না। প্রতিটি রত্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারস্যের ইতিহাস, রাজনীতি ও সংস্কৃতির গল্প। তাই অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এর প্রকৃত মূল্য অর্থ দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
আজও তেহরানের ভল্টে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সংরক্ষিত এই ধনভাণ্ডার বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় এবং অমূল্য ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত।
