আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার, ২রা এপ্রিল, এক টেলিভিশন ভাষণে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আনসারুল্লাহ বাহিনী অধিকৃত জাফা শহরে ইজরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানটি ইরাক, ইরান, প্যালেস্তাইন এবং লেবাননের প্রতিরোধ ফ্রন্টগুলোর প্রতি সমর্থন প্রকাশের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ইয়াহিয়া সারি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই অপারেশনটি ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর 'মুজাহিদিন ভাইদের' সাথে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি সফলভাবে তার লক্ষ্য অর্জন করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই 'ব্যতিক্রমী ও গুরুত্বপূর্ণ' যুদ্ধে আনসারুল্লাহর অংশগ্রহণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি এখানেই থেমে থাকবে না। ইজরায়েল যদি উত্তেজনা বৃদ্ধির পথ বেছে নেয় তবে আনসারুল্লাহও সেভাবেই কঠোর জবাব দেবে, আর যদি তারা পিছু হটে তবে পরিস্থিতির ভিন্ন মূল্যায়ন করা হবে।

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-সমর্থিত 'প্রতিরোধের অক্ষ' বা 'অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স'-এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার কয়েক দিন পরই আনসারুল্লাহর পক্ষ থেকে এই হামলা চালানো হল। উল্লেখ্য যে, গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল  যৌথভাবে ইরানের ওপর দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের আগ্রাসন চালানোর পর হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) সরাসরি যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। গাজায় যুদ্ধবিরতির শর্ত পূরণ হওয়ায় আনসারুল্লাহ গত কয়েক মাস লোহিত সাগরে তাদের অভিযান স্থগিত রেখেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং তার মিত্রদের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধে আনসারুল্লাহর এই অংশগ্রহণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। বিশেষ করে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রাখে এবং একই সাথে আনসারুল্লাহ লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে তা হবে একটি কৌশলগত গেম-চেঞ্জার। এটি ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু প্রশাসনের জন্য এমন এক চাপের সৃষ্টি করতে পারে যা তাদের যুদ্ধের ময়দানে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে পারে।

একই দিন সন্ধ্যায় আনসারুল্লাহর নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি এক টেলিভিশন ভাষণে ইরানের 'শক্তিশালী ও অবিচল' সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, এই প্রতিরোধের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হয়েছে এবং ইজরায়েলের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকার করেছে। 

আল-হুথি পশ্চিম সংবাদমাধ্যমগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তারা প্রতিরোধের এই সংগ্রামকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং অঞ্চলের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইহুদিবাদের বিরুদ্ধে এই লড়াই কেবল ইরান, লেবানন বা প্যালেস্তাইনের একক লড়াই নয়, এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত অস্তিত্বের সংগ্রাম। প্যালেস্তাইনের যোদ্ধারা কেবল ইরানের স্বার্থে লড়ছে—এমন প্রচারণাকে তিনি অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে প্রতিরোধের অক্ষের ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভেদ সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা রুখে দিয়ে ন্যায়বিচার ও সত্যের পথে অবিচল থাকাই হবে সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত নস্যাৎ করার চাবিকাঠি।