আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হয়। ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হয়। হরমুজ অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন হয়েছে। এর ফলে নানা দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়া ও এর বাইরে ব্যাপক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ৯ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি জারি হলেও, প্রণালীটি মূলত বন্ধই ছিল এবং সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক চলাচল তখনও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।
এই প্রবল অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতীয় জাহাজ ওই প্রণালী দিয়ে ক্রমাগত চলাচল করছেই। এর ফলে নয়াদিল্লি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রণালীটির ওপর ইরানের একটি বড় ভৌগোলিক সুবিধা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বারবার জাহাজকে নিশানা করেছে।
শুক্রবার একটি আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রকের আধিকারিকরা এই উত্তেজনাপূর্ণ জলপথে ভারত কীভাবে জাহাজ চলাচল পরিচালনা করছে সে বিষয়ে কিছু আলোকপাত করেছেন, যদিও তাঁরা কার্যপ্রণালীর বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেননি। বন্দর মন্ত্রকের নৌপরিবহন পরিচালক ওপেশ কুমার শর্মা বলেন, “ভারত ও ইরানের সঙ্গে আমরা কীভাবে সমন্বয় করি, কীভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করি, সে বিষয়ে আমি স্বাভাবিকভাবেই কিছু বলতে চাই না। আমরা বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে সমন্বয় করি এবং আমাদের কার্যক্রম সেখানেই সীমাবদ্ধ।”
জ্বালানি ও অত্যাবশ্যকীয় সরবরাহ সংক্রান্ত প্রধান মন্ত্রকগুলির সঙ্গে যৌথভাবে জাহাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয় বলে জানান ওপেশ। তিনি বলেন, “অগ্রাধিকারের বিষয়টি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং সার মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং এরপর অগ্রাধিকার তালিকা প্রস্তুত করা হয়, যার মাধ্যমে আমরা জাহাজগুলিয়েকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করি।”
ওপেশ জানিয়েছেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে প্রায় ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার, পাঁচটি অপরিশোধিত তেল ট্যাঙ্কার, একটি রাসায়নিক বা পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার, তিনটি কন্টেইনার জাহাজ, দু’টি বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি ড্রেজার। বিপদ সত্ত্বেও, ভারত এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল বজায় রেখেছে এবং প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াতকারী সর্বাধিক সংখ্যক জাহাজের দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যে ভারতীয় জাহাজগুলি এই জলপথ অতিক্রম করেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শিবালিক, নন্দা দেবী, জাগ লাডকি, পাইন গ্যাস, জাগ বসন্ত, বিডব্লিউ টায়ার, বিডব্লিউ এলম এবং গ্রিন সানভি।















