রাজ্যে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' যোজনা। এই প্রকল্পের টাকা শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য দাবিদারদেরই দেওয়া হবে এবং কোনও ধরনের অপচয় বা ফূর্তি করার জন্য এই সরকারি অর্থ ব্যবহার করা যাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
2
9
খড়গপুরের একটি সভা থেকে স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে যারা অসৎ উপায়ে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর টাকা নিয়েছেন, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। অযোগ্যদের থেকে সুদসহ সমস্ত টাকা উসুল করা হবে।
3
9
খড়গপুরের সভা থেকে অত্যন্ত কড়া সুরে দিলীপ ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কেন সব স্তরের মানুষ পাবে? তাঁর কথায়, আগে ডাক্তারের বউ, মাস্টারের বউ—সবাই এই টাকা পেয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সরকারি টাকা কি পান খাওয়া কিংবা বিউটি পার্লারে যাওয়ার জন্য? এই সমস্ত নিয়মের দিন এবার শেষ হতে চলেছে।
4
9
নতুন চালু হওয়া 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' নিয়ে তিনি জানান, আবেদন করার জন্য তেরো পাতার একটি ফর্ম দেওয়া হচ্ছে, যা পূরণ করা মোটেও কঠিন কিছু নয়। তবে এই ফর্মে পরিবারের সবার বিস্তারিত তথ্য, আয়, সম্পত্তি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ চাওয়া হয়েছে, যাতে স্পষ্ট বোঝা যায় আবেদনকারী আদেও এই সাহায্যের যোগ্য কি না। এটি কোনও উৎসব বা ফূর্তি করার জায়গা নয়, যার প্রকৃত প্রয়োজন কেবল সেই এই সুবিধা পাবে।
5
9
তৃণমূলের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে হওয়া দুর্নীতির দিকে আঙুল তুলে দিলীপ ঘোষ আরও দাবি করেন, অনেক জায়গায় পুরুষরাও জালিয়াতি করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেছে। এমন অভিযোগে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে কোমরে দড়ি দিয়ে জেলে ভরা হয়েছে এবং সেই ছবিও সামনে এসেছে। এই ধরনের জালিয়াতি যারা করেছেন, তাদের কাছ থেকে বিগত এক বছর বা যতদিনের টাকা তারা নিয়েছেন, তা সুদ সমেত ফেরত নেওয়া হবে।
6
9
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নাম নথিভুক্তিকরণ চললেও, ফর্মের নানা শর্ত দেখে সাধারণ মানুষের মনে যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করার চেষ্টাও করেন তিনি। মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, এই ফর্ম ফিলআপের প্রক্রিয়া তিন মাস ধরে চলবে, তাই তাড়াহুড়ো বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। যারা সৎ উপায়ে আবেদন করবেন, তারা প্রত্যেকেই তালিকায় স্থান পাবেন, শুধু বাদ পড়বেন দুই নম্বরি করা মানুষেরা।
7
9
অন্যদিকে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে আমজনতার বিভ্রান্তি দূর করতে বড় ঘোষণা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ফর্মে অনেক তথ্য চাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য এবার সরকারি কর্মচারীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবেন এবং ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন।
8
9
বিগত দিনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যে চরম অনিয়ম চলেছে এবং পুরুষরা পর্যন্ত টাকা তুলে গ্রেপ্তার হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের এই সরকার চায় শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকরাই যেন এই সুবিধা পান। আগামী বুধবার থেকেই প্রথম পর্যায়ের ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
9
9
দলতন্ত্রের বদলে এই সরকার এখন পুরোপুরি জনগণের সরকার হিসেবে কাজ করবে বলেই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের এই নতুন প্রকল্প এবং তা নিয়ে দুই শীর্ষ নেতার এমন কড়া অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই গোটা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।