আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা লক্ষাধিক অভিবাসীর জন্য বড় স্বস্তির খবর দিল মার্কিন প্রশাসন। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত অভিবাসন নির্দেশিকা ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, অধিকাংশ গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে তাঁদের আবেদন পর্যালোচনার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না।
গত সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার এক বক্তব্য অভিবাসী সম্প্রদায়, নিয়োগকারী সংস্থা এবং অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছিল। ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি চাওয়া ব্যক্তিদের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে, যদি না তাঁদের ক্ষেত্রে কোনও অন্য পরিস্থিতি প্রযোজ্য হয়।
এই মন্তব্যের পরই আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে যে, বহু বছর ধরে প্রচলিত ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্তমানে যোগ্য অভিবাসীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশেই থাকার অনুমতি পান। সাধারণত কোনও নিয়োগকর্তা বা নিকট আত্মীয়ের স্পনসরশিপের মাধ্যমে এই আবেদন করা হয়।
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নীতিতে কোনও মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের আগে থেকেই ক্ষমতা ছিল পৃথকভাবে প্রতিটি আবেদন মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে আবেদনকারীকে বিদেশ থেকে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে কি না। সেই ব্যবস্থাই এখনও বহাল রয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় জ্যাক কাহলারের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলাকালীন নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। তাঁর বক্তব্যে বলা হয়েছিল, এই ব্যবস্থা অভিবাসন আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাবে।
এই মন্তব্যের পর মার্কিন ব্যবসায়ী মহল এবং বিদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়। কারণ ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ লক্ষ গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত আবেদনকারীদের ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে।
বিশেষ করে ছাত্র ভিসা এবং পর্যটক ভিসাধারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁদের গ্রিন কার্ড আবেদন চলমান থাকলেও বাধ্যতামূলকভাবে দেশ ছাড়তে হতে পারে। একইভাবে এইচ ওয়ানবি ভিসাধারীরাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন।
&t=2s
এই প্রসঙ্গটি ভারতীয়দের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ ওয়ানবি ভিসা প্রাপকদের প্রায় ৭০ শতাংশই ভারতীয়। তবে নতুন ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে যে কর্মীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাবেন।















