আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিজের স্বামীকে খুনের উদ্দেশ্যে এক মহিলা যা করেছেন, তাকে অপরাধ বিজ্ঞানের ভাষায় যেমন 'অকল্পনীয়' বলা হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের কাছে এটি এক চরম উন্মাদনার গল্প। এক মহিলা তার নিজের যৌনাঙ্গে বিষ মাখিয়ে স্বামীকে ওরাল সেক্স বা মুখমৈথুনে প্ররোচিত করেছিলেন, যাতে মিলনের চরম মুহূর্তে বিষক্রিয়ায় স্বামীর মৃত্যু হয়। সংবাদমাধ্যমে এই বিচিত্র ষড়যন্ত্রকে ইতোমধ্যেই 'কানিং কানিলিঙ্গাস' বা ধূর্ত মুখমৈথুন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলের সাও জোসে রিও প্রেটো শহরে সম্প্রতি এমনই এক রোমহর্ষক ও অদ্ভুত অপরাধের চেষ্টা সামনে এসেছে, যা শুনে রীতিমতো থমকে গেছে বিশ্ববাসী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ৪৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তার স্ত্রীর অস্বাভাবিক আচরণের সম্মুখীন হন। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই মহিলা তার স্বামীকে বিছানায় আসার জন্য লোভ দেখাচ্ছিলেন এবং তাকে ওরাল সেক্স করার জন্য বারবার জোরাজুরি করছিলেন। তবে স্বামীর মনে খটকা লাগে যখন তিনি স্ত্রীর শরীরের সেই বিশেষ অংশ থেকে একটি তীব্র ও অস্বাভাবিক গন্ধ পান। স্ত্রীর শরীর খারাপ হয়েছে ভেবে এবং তার প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে ওই ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অথচ তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে, এই সহানুভূতিই শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ বাঁচিয়ে দেবে।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা যখন ওই মহিলার শারীরিক পরীক্ষা করেন, তখন পরীক্ষার রিপোর্টে যা উঠে আসে তা দেখে সবার চক্ষু চড়কগাছ। দেখা যায়, ওই মহিলা তার যৌনাঙ্গে এমন এক বিষাক্ত রাসায়নিক বা টক্সিন ব্যবহার করেছেন, যার পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে তাতে কেবল তার স্বামীই নন, ওই মহিলা নিজেও মারা যেতে পারতেন। ল্যাবরেটরি টেস্টের অকাট্য প্রমাণের সামনে পড়ে ওই মহিলা শেষ পর্যন্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। জানা গেছে, তিনি স্বামীর কাছে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন, কিন্তু স্বামী তাতে রাজি না হওয়ায় তিনি এই চরম ও অদ্ভুত পথ বেছে নেন।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে চিকিৎসকরা এই বিষয়ের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদেহের ওই অংশ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং শোষণক্ষমতা সম্পন্ন। সেখানে সরাসরি বিষ প্রয়োগ করা মানে নিজের রক্তপ্রবাহে বিষ মিশিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ স্বামীকে মারার আগে ওই মহিলা নিজেই আত্মহত্যার পথ তৈরি করেছিলেন। জেসাবেল নামক একটি ওয়েবসাইটের মন্তব্যে ঠিকই বলা হয়েছে যে, 'যৌনাঙ্গে বিষ মাখিয়ে কাউকে মারার পরিকল্পনা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়', কারণ এতে আক্রমণকারী নিজেই আগে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অন্যদিকে, স্যালন ম্যাগাজিনের সাংবাদিক কেটি ম্যাকডোনাঘ বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে দেখেছেন। তার মতে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্ত্রী যখন তাকে মারার ফাঁদ পেতেছিলেন, তখনও স্বামী তার সেই অস্বাভাবিক গন্ধ পেয়ে সেবা করার মানসিকতা নিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সমাজে এখনও মহানুভবতা বা 'শিভালরি' টিকে আছে। বর্তমানে ওই মহিলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াল্টার কোয়াসিনো জুনিয়র জানিয়েছেন, বিষয়টির গুরুত্ব ও বিচিত্র ধরনের কথা বিবেচনা করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর ওই মহিলার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার স্বামী। এক বিচ্ছেদকামী স্ত্রীর এমন মরণপণ ও অদ্ভুত জেদ এখন সাও জোসে রিও প্রেটোর গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।















