আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করাই এখন তাঁর প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তবে সেই সংঘাত মিটে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী মনোযোগ কিউবার দিকে ঘুরতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার বদলের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে Inter Miami CF-এর মেজর লিগ সকার শিরোপা জয় উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের যুদ্ধ শেষ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর কথায়, “আমরা আগে এই যুদ্ধটা শেষ করতে চাই। তবে তার পরে খুব বেশি সময় লাগবে না—আপনাদের অনেকেই আবার কিউবায় ফিরে যাবেন।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হাভানা ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, কিউবা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার জন্য খুবই আগ্রহী। তিনি বলেন, বহু কিউবান-আমেরিকান ভবিষ্যতে আবার নিজেদের দ্বীপে ফিরে যেতে পারবেন। “আমরা চাই আপনারা ফিরে যান, আমরা আপনাদের হারাতে চাই না,” মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, আর ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সেই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।

একই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ব্যাপারেও আশাবাদী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইসরায়েলি মিত্র দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করছে। তাঁর কথায়, মার্কিন বাহিনী ও ইসরায়েলি অংশীদাররা নির্ধারিত সময়ের আগেই শত্রুপক্ষকে “সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস” করে দিচ্ছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের কার্যত কোনও বিমানবাহিনী বা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই এবং দেশটির নৌবাহিনীকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মাত্র তিন দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২৪টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ট্রাম্পের দাবি, এখন ইরানের নেতারাই আলোচনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, তারা ফোন করে জানতে চাইছে কীভাবে একটি চুক্তি করা যায়। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বেশি আগ্রহী।

এদিকে ট্রাম্প ইরানি কূটনীতিকদের দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বানও জানান। তাঁর মতে, যারা সহযোগিতা করবে তারা একটি “নতুন ও উন্নত ইরান” গঠনে সহায়তা করতে পারে, যদিও সংঘাত অব্যাহত থাকলে তার গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের প্রসঙ্গেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধের মধ্যেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অগ্রাধিকারে সাময়িক পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। হোয়াইট হাউসের মতে, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের পুরো মনোযোগ ইরানের যুদ্ধের দিকেই কেন্দ্রীভূত। তবে ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে এই সংঘাত শেষ হলে দ্রুতই কিউবা প্রশ্নটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।