আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন ইরানকে ৩০০ কোটি ডলার দেবে। এমন খবর সোমবার প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তেহরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে! এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ কোটি ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা ‘ড্যামোক্র্যাট’দের ছড়ানো ভুয়া খবর!”

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিরসন এবং একটি বৃহত্তর সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রাথমিক চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এই বিবৃতিটি এল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে যে ইজরায়েল শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিকে সমর্থন করবে।

এনবিসি-র ‘নাইটলি নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, এই চুক্তি ইজরায়েলের নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে। তিনি আস্থা প্রকাশ করেন যে, চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইজরায়েলি নেতারা একে সমর্থন জানাবেন। ভ্যান্স বলেন, “আমি মনে করি মৌলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু স্বার্থ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্বার্থের মধ্যে যেমন মিল রয়েছে, তেমনি মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মতপার্থক্যও হতে পারে, এবং আমি মনে করি এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।”

এই চুক্তির বিষয়ে ইজরায়েলের অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই তাঁর এই মন্তব্য এল।

সিআইএ প্রধানের উদ্বেগ
হোয়াইট হাউস এই চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিলেও, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের একাংশ এই চুক্তি নিয়েবেশ উদ্বেগে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ ট্রাম্প ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন যে, চূড়ান্ত চুক্তিতে ওয়াশিংটন যেসব পারমাণবিক ছাড়ের দাবি জানাচ্ছে, সে বিষয়ে ইরানের সদিচ্ছা নিয়ে গোয়েন্দা মূল্যায়নে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ঘোষণার আগে অনুষ্ঠিত অভ্যন্তরীণ বৈঠকে র‍্যাটক্লিফ এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন।

অ্যাক্সিওস-এর উদ্ধৃত সূত্রগুলোর তথ্যমতে, গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, ভবিষ্যৎ পারমাণবিক চুক্তির শর্তাবলী তেহরান হয়তো পুরোপুরি মেনে নাও চলতে পারে।

রুবিও-র সংশয়
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন।

খবর অনুযায়ী, র‍্যাটক্লিফ ও রুবিও তাঁদের সহকর্মীদের বলেছিলেন যে, মার্কিন প্রস্তাবে উল্লেখ করা পারমাণবিক পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে ইরান সম্মত হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে।

অ্যাক্সিওস-এর মতে, এই উদ্বেগগুলো প্রশাসনের একাংশের মধ্যে থাকা সেই ব্যাপক সংশয়কেই প্রতিফলিত করে। কারণ, প্রশ্ন তোলা হচ্ছে যে, চুক্তির আওতায় প্রত্যাশিত প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে তেহরানের আদৌ কোনও সদিচ্ছা আছে কি না।

রবিবার স্বাক্ষরিত এই প্রাথমিক চুক্তিটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা এটিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও, গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরে ভিন্ন ভিন্ন মত। প্রশাসন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।